গৃহহারা, ফিলিস্তিনের আর্তনা,: ফররুখের ‘লাশ’, হৃদয়হীন, সভ্যতার আয়না,
ফিলিস্তিনিদের বাড়ি ভাঙ্গার কাজ চলছে। সংগৃহীত

১৯৪৩ সালের মর্মান্তিক মন্বন্তর ও অনাহারের বীভৎস রূপকে কেন্দ্র করে কবি ফররুখ আহমদ লিখেছিলেন তাঁর কালজয়ী ‘লাশ’ কবিতা। রাজপথে ক্ষুধাতুর মানুষের ধুঁকে ধুঁকে ঢলে পড়া, আর এই চরম মানবিক বিপদে তৎকালীন শোষক ও ভোগবাদী শাসকশ্রেণীর উদাসীনতাকে কবি আখ্যা দিয়েছিলেন ‘হৃদয়হীন সভ্যতা’ বলে। আট দশক পর এসেও যেন সেই ট্র্যাজেডির অবসান হয়নি। আজ গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং লেবাননের মাটিতে দখলদার বাহিনীর বোমাবর্ষণ, পরিকল্পিত অনাহার ও ভিটামাটি থেকে লাখ লাখ মানুষকে উচ্ছেদের যে নজিরবিহীন তাণ্ডব চলছে, তা ফররুখ আহমদের সেই আর্তনাদ ও বিশ্ব বিবেকের চরম ব্যর্থতারই এক নৃশংস আধুনিক পুনরাবৃত্তি।

Advertisement
এখানে স্কুলটি ছিল এখন ভাঙ্গা ইট-পাথরের স্তুপ

 

আল জাজিরা জানায়, ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের অন্যতম বৃহত্তম ও ঐতিহাসিক শহর হেবরন অবরুদ্ধ করে মধ্যরাতে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে ইসরাইলি দখলদার বাহিনী। হেবরনের আল-জালদা স্কয়ারের এক বাসিন্দা সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ ইসরাইলি সামরিক যান এসে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। তাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। কখন ফিরতে পারবেন জানতে চাইলে সেনারা সাফ জানিয়ে দেয়—পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। শেষ পর্যন্ত পরনের সামান্য পোশাকটুকু সম্বল করে শিশু ও বৃদ্ধ পরিজন নিয়ে সেই গভীর রাতে বাধ্য হয়ে তাঁদের গৃহত্যাগ করতে হয়।

ঘটনার সূত্রপাত ২৩ অক্টোবর। সেদিন শহরের নিকটবর্তী একটি সামরিক তল্লাশি চৌকিতে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের হামলায় দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হয়। এর পর থেকেই পুরো হেবরন জেলাজুড়ে নেমে এসেছে ইসরাইলি বাহিনীর যৌথ শাস্তিমূলক পদক্ষেপের খড়্গ। প্রায় ৮ লাখ ফিলিস্তিনির বসবাসের এই বিশাল অঞ্চলে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে তাদের বাড়ির দেয়ালে ও দরজায় এঁকে দেওয়া হচ্ছে একটি বড় কালো ‘এক্স’  চিহ্ন। এই চিহ্ন দেওয়ার অর্থ হলো বাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং সেনারা সেটিকে তাদের সামরিক ঘাটিতে রূপান্তর করছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ  ইসরাইলের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন ও ‘সম্মিলিত শাস্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, অভিযান শুরুর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে হেবরন থেকেই প্রায় ৫ হাজার ফিলিস্তিনিকে ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। তারা বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েন। 

ইসরাইলি আগ্রাসন শুরুর আগের গাজার একটি অংশ

 

তবে হেবরনের এই উচ্ছেদ অভিযান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি বছরের পর বছর ধরে চলে আসা পরিকল্পিত ঘরবাড়ি ধ্বংস প্রক্রিয়ারই ধারাবাহিক রূপ। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয়ের  পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৯ সাল থেকে এই বছরের ২৩ অক্টোবর অবরুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরির পূর্ব পর্যন্ত কেবল হেবরন জেলাতেই ২,৪৯১টি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এর ফলে বাস্তুচ্যুত হতে হয়েছে ৩,৫৩৪ জন ফিলিস্তিনিকে। বিশেষ করে ‘এরিয়া সি’ এবং অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ২০২৪ সালের পর থেকে ঘরবাড়ি ধ্বংসের মাসিক গড় হার আগের ১৫ বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই ধ্বংসযজ্ঞের একটি বড় হাতিয়ার হলো ইসরাইলের বৈষম্যমূলক ‘নির্মাণ অনুমতি’ বা পারমিট ব্যবস্থা। ফিলিস্তিনিদের জন্য ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভবন নির্মাণের বৈধ অনুমতি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। ফলে বাধ্য হয়ে নিজেদের জায়গায় যেসব ঘরবাড়ি তারা তোলেন, সেগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করে নিমেষেই গুঁড়িয়ে দেয় দখলদার বাহিনী। দক্ষিণ হেবরন পাহাড়ের ১৩টি ছোট জনপদ নিয়ে গঠিত ‘মাসাফের ইয়াত্তা’ অঞ্চলে গত ১৫ বছরে প্রায় ৪০০টি ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধূলিসাৎ করা হয়েছে, যার ফলে ৯৬৯ জন ফিলিস্তিনি তাঁদের সর্বস্ব হারিয়েছেন। উদ্বেগের বিষয় হলো, এর প্রায় অর্ধেক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের পর থেকে। সেখানে শিশুদের প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রক্ষা পায়নি; ‘শাআব আল-বুতুম’ প্রাথমিক বিদ্যালয়টির ধ্বংসস্তূপের ওপর এখন ফিলিস্তিনি বাচ্চা-কাচ্চাদের দিশেহারা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

সেই গাজার আজকের চেহারা

 

পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলীয় পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রা আরও বেশি বিপন্ন। ইউএনআরডব্লিউএ-এর পশ্চিম তীর সংক্রান্ত পরিচালক রোল্যান্ড ফ্রিডরিখ চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, হেবরনের বর্তমান দৃশ্যপট ২০২৫ সালের শুরুর দিকে উত্তর পশ্চিম তীরের সেই মর্মান্তিক স্মৃতিকেই ফিরিয়ে আনছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে ইসরাইলি বাহিনী ‘আয়রন ওয়াল’ নামে এক বিশাল সামরিক অভিযান শুরু করেছিল। এর ফলে  জেনিন, তুল কারেম এবং নুর শামস শরণার্থী শিবিরগুলোকে প্রায় জনশূন্য হয়ে যায়।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ‘আয়রন ওয়াল’ অভিযান শুরু হওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পর আজও জেনিন, তুল কারেম ও নুর শামস শরণার্থী শিবিরের ৩৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি শরণার্থী নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরতে পারেননি। সেই অভিযানে শিবিরের অর্ধেকেরও বেশি আবাসিক ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। ওসিএইচএ-এর খাতায় ২০০৯ থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জেনিন ও তুল কারেম জেলায় ১,৩৯৯টি ভবন ধ্বংস এবং ৪,১৩৯ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। তবে জাতিসংঘের এই তালিকা কেবল পারমিটহীন বা শাস্তিমূলক উচ্ছেদের হিসাব ধরা হয়েছে; সামরিক অভিযানের সময় যে শত শত ভবন বোমা ও বুলডোজার দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে সেগুলো এই তালিকায় নেই। 

গবেষণা সংস্থা ‘ফরেনসিক আর্কিটেকচার’-এর এক অনুসন্ধানে ইসরাইলি ধ্বংসযজ্ঞের এক ভয়াবহ ও পরিকল্পিত রূপ উন্মোচিত হয়েছে। চারটি ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে সাঁজোয়া বুলডোজার, নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ও বিমান হামলার মাধ্যমে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ধ্বংসের অন্তত ২০০টি সুনির্দিষ্ট ঘটনা যাচাই করেছে সংস্থাটি। গবেষকরা দেখেছেন, সামরিক যান চলাচলের জন্য ফিলিস্তিনিদের শোবার ঘর, রান্নাঘর ও আঙিনার ভেতর দিয়ে জোরপূর্বক পথ ও রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। সংস্থাটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরাইল গাজা উপত্যকায় যে নৃশংস ও সর্বাত্মক ধ্বংসাত্মক কৌশল প্রয়োগ করেছিল, ঠিক একই মডেল বা কৌশল এখন অধিকৃত পশ্চিম তীরেও প্রয়োগ করছে।

এখানে ফিলিস্তিনিরা থাকেন

 

ইসরাইলের শীর্ষ পর্যায় থেকেও এই আগ্রাসনের খোলামেলা হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, পশ্চিম তীরের তুল কারেম ও জেনিন শহরের অবস্থাও গাজার সবচেয়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ‘জাবালিয়া’ এবং ‘শুজাইয়া’র মতো করা হবে।

হুমকি অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে সামরিক হামলা ও উচ্ছেদ অব্যাহত রয়েছে। তুল কারেমে ফিলিস্তিনিদের আটক করা, কিংবা নাবলুসের দক্ষিণে বুরিন গ্রামে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি দখল করে সেগুলোকে সামরিক ব্যারাকে বানানোর ঘটনা প্রতিদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে। জেনিনের কাছে আস্ত একটি গ্রামের অধিবাসীদের স্থায়ীভাবে ভিটেমাটি ছাড়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। নিজের শেষ সম্বলটুকু গুটিয়ে নেওয়ার সময় জাবরি ইয়াহিয়া নামে এক ফিলিস্তিনি কৃষক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার কিছু ভেড়া ও গরু আছে। আমাদের পুরো জীবনটাই বাঁধা পড়েছে এই মাটির সাথে। গত বছর তারা আমাদের বহু বছরের জলপাই গাছগুলো কেটে সাবাড় করেছিল, আর এ বছর আমাদের এই বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করছে। আমরা পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, তা আমাদের জানা নেই।’

গাজায় গণকবর দেয়ার মর্মবিদারক দৃশ্য

 

পশ্চিম তীরের এই ভয়াবহতার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি নৃশংস রূপ দেখা গেছে গাজা উপত্যকায়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা ও উপগ্রহ কেন্দ্র ( ইউএসওএসটি)-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত গাজা উপত্যকার প্রায় ২ লাখ ১,২৯০টি স্থাপনা আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অর্থাৎ পুরো গাজা উপত্যকার মোট বাড়িঘর ও অবকাঠামোর প্রায় ৮২ শতাংশকে ধ্বংস করা হয়েছে। ইসরাইলের তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চালানো এই তাণ্ডবে এখন পুরো গাজা রূপ নিয়েছে খোলা আকাশের নিচে এক সুবিশাল শরণার্থী শিবিরে।

গাজার লাখ লাখ পরিবার এখন সামান্য প্লাস্টিক, ত্রিপল, কাঠ বা জরাজীর্ণ ভাঙা বাড়ির নিচে আশ্রয় নিয়ে কোনোমতে দিন কাটাচ্ছেন। সেখানে বিশুদ্ধ খাওয়ার পানি নেই, পয়োনিষ্কাশনের ন্যুনতম ব্যবস্থা নেই। তার ওপর প্রতি বছর নতুন করে আসা শীত তাদের জীবনকে আরও বিপন্ন করে তুলছে। গাজা সিটির শুজাইয়া এলাকা থেকে কয়েকবার বাস্তুচ্যুত হওয়া ৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-জামাল এখন সাগরের নোনা বাতাসের মধ্যে সৈকতে টানানো একটি জরাজীর্ণ তাঁবুতে বাস করছেন। তাঁর সাথে রয়েছেন বর্ধিত পরিবারের আরও ৩০ জন সদস্য। ঝড়ের আভাস পেলেই ছেঁড়া তাঁবুতে তালি দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি, কারণ নতুন একটি ত্রিপল কেনার সামর্থ্যও তাঁর নেই। তিনি আকুতি করে বলেন, ‘আমরা তো আর ঘরবাড়িতে বাস করছি না, আমরা রাস্তায় বাস করছি। এই তাঁবু আমাদের ঠান্ডা বা ঝড় থেকে রক্ষা করতে পারছে না।’ স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায়, পুরো গাজা উপত্যকার সমৃদ্ধ জনপদগুলো আজ ধূলিসাৎ হয়ে ইট-পাথরের স্তূপে পরিণত হয়েছে।

গাজায় ক্ষুুধিত শিশুর ভীড়

 

একই চিত্র ফুটে উঠেছে দক্ষিণ লেবাননেও। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি ( ইউএনডিপি)-এর জরিপ অনুযায়ী, লিটানি নদীর দক্ষিণে অন্তত ৩১,২৫৯টি ভবন আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা ( আইওএম) জানিয়েছে, সেখানে ৩ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হওয়া সত্ত্বেও ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন অংশ দখলে রেখেছে এবং ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষেরা নিশ্চিত নন তাঁরা আদৌ কোনোদিন উচ্ছেদ হওয়া নিজেদের ঘরবাড়িতে পা রাখতে পারবেন কি না।

হেবরন, জেনিন, গাজা কিংবা দক্ষিণ লেবানন—সবখানেই ইসরাইলি বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ কেবল মানুষকে ঘরছাড়া করে থামছে না, বরং তাদের ফেরার মতো সমস্ত পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিচ্ছে। হেবরনের পরিস্থিতি দেখে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার টুর্ক চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, পুরো একটি এলাকাকে জনশূন্য করে ফেলার এবং মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়ার এই অপচেষ্টা মূলত ‘জাতিগত নিধনের’  শামিল। তিনি বাস্তুচ্যুত সকল ফিলিস্তিনিকে অবিলম্বে নিজ নিজ বাড়িতে ফেরার অধিকার দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

গাজায় বর্বরতার শেষ কবে হবে

 

কিন্তু আধুনিক বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর নীরবতা ও প্রত্যক্ষ মদদে এই মানবতাবিরোধী অপরাধ অবিরাম চলছে। বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি ও মানবাধিকারের চরম উৎকর্ষের যুগে হাজার হাজার শিশু ও অনাহারী মানুষের চোখের সামনে ধুঁকে ধুঁকে মরে যাওয়া প্রমাণ করে, বিশ্ব বিবেক আজ কতটা অন্ধ। কবি ফররুখ আহমদ আট দশক আগে যে বস্তুপ্রেমী, উদাসীন ও অমানবিক সমাজের ধ্বংস কামনা করেছিলেন, গাজার অনাহার ও উচ্ছেদ যেন আজ সেই ফাঁপা ও হৃদয়হীন সভ্যতার স্বরূপই আবার বিশ্বমঞ্চে উন্মোচিত করেছে। কবির সেই উচ্চারণ আজও যেন সমান প্রাসঙ্গিক : ‘আজ এই উৎপীড়িত মৃত্যু-দীর্ণ নিখিলের অভিশাপ বও; / ধ্বংস হও তুমি ধ্বংস হও।’ হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পরিবারের কাছে এখন প্রশ্ন, তারা কবে বাড়ি ফিরবে, তা নয়; বরং ফিরবার মতো কোনো বাড়ি আদৌ আর অবশিষ্ট থাকবে কি না। নাকি একদিন তাদের ভিটেমাটির জায়গায় পড়ে থাকবে শুধু লাশের সারি আর ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপ—যে দৃশ্যের সামনে দাঁড়িয়ে কবির সেই ধ্বংসের আহ্বানই যেন হয়ে উঠবে মানবসভ্যতার বিরুদ্ধে এক চূড়ান্ত অভিযোগ।