সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় লোগো। নয়া দিগন্ত

ভৈরব-ময়মনসিংহ ১১৬ কিলোমিটার রেলপথ একসময় এ অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক যাত্রীর যোগাযোগের প্রধানতম বাহন ছিল। এই রেলপথে ঈশ্বরগঞ্জ, নীলগঞ্জ, যশোদলপুর, বাজিতপুর, নান্দাইল, আঠারবাড়ী, সরারচর, হালিমপুর, কুলিয়ারচর, ছয়সূতি, গৌরীপুর এবং ভৈরবের কালিকাপ্রসাদসহ উভয় জেলার অন্তত ২২টি রেলস্টেশন দীর্ঘদিন ধরে অকেজো পড়ে আছে। এতগুলো রেলস্টেশন বন্ধ থাকায় বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বাসভাড়ার ঊর্ধ্বগতির বাজারে স্বল্প আয়ের মানুষ বেকায়দায় পড়েছেন। 
রেলওয়ে সূত্রের বরাতে নয়া দিগন্তের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে— লোকাল ট্রেনে সর্বনিম্ন ভাড়া পাঁচ টাকা এবং মেইলে ১৫ টাকা। ময়মনসিংহ-ভৈরব রুটে লোকাল ট্রেনের ভাড়া ৪০ টাকা ও মেইল ট্রেনের ভাড়া ৫৫ টাকা। অন্য দিকে আন্তঃনগর ট্রেনে গুনতে হয় ১২৫ টাকা ভাড়া। বাসভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে অল্প খরচের লোকাল ট্রেনগুলো ছিল জনপ্রিয়। এগুলো বন্ধ হওয়ায় শুধু সাধারণ যাত্রীরাই বিপাকে পড়েননি, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতিও। প্রতিটি স্টেশনে ট্রেন থামার সুবাদে কৃষক-ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কৃষিপণ্য স্বল্প খরচে জেলা শহর ও অন্যান্য বাজারে সরবরাহ করতে পারতেন; কিন্তু ট্রেনসেবা বন্ধ থাকায় কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর ক্ষুদ্র ব্যবসার পথও সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগী, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের প্রতিদিনের যাতায়াত অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। 
করোনা অতিমারী শুরু হলে বিভিন্ন স্থানে লোকাল ট্রেনসেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। মহামারী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অনেক জায়গায় আবার রেলের এই সেবা চালু করা হয়; কিন্তু ময়মনসিং-ভৈরব রুটে পুনরায় চালু হয়নি। ফলে এ পথে চলাচলকারী লোকাল ট্রেন, মেইল ট্রেন ‘ঈশা খাঁ এক্সপ্রেস’ এবং সম্প্রতি ইঞ্জিন সঙ্কটের অজুহাতে প্রায় বন্ধ থাকা ‘নাসিরাবাদ এক্সপ্রেসের’ অচলাবস্থায় জনজীবনকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।  
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও এ রুটে কী কারণে লোকাল ট্রেনসেবা এখনো চালু করা হয়নি, কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি। তবে লোকাল ও মেইল ট্রেন চালু না হওয়া অনানুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়, কিছু যাত্রীর বিনা টিকিটে টেন ভ্রমণ করায় লোকসান হচ্ছে। কিন্তু এর দায় পুরো অঞ্চলের ওপর চাপিয়ে একটি জনসেবামূলক খাত অকার্যকর করে রাখা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। 
রেলওয়ে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। জনদুর্ভোগ লাঘব এবং প্রান্তিক মানুষের যাতায়াত সহজলভ্য করতে রেল মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিতে হবে। এ জন্য ২২টি স্টেশনের অবকাঠামো সংস্কার প্রয়োজন। সেই সাথে বিনা টিকিটে ভ্রমণের সংস্কৃতি রোধে রেল কর্তৃপক্ষকে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর তদারকি করতে হবে। স্থানীয় কৃষিপণ্য সহজে ও কম খরচে পরিবহনে ট্রেনগুলোতে লাগেজ ভ্যান বা বিশেষ ব্যবস্থার প্রচলন করা যেতে পারে। 
যেহেতু বাসযাত্রার তুলনায় ট্রেনভ্রমণ বেশি নিরাপদ ও সাশ্রয়ী তাই অবিলম্বে ঈশা খাঁ ও নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস-সহ বন্ধ সব লোকাল-মেইল ট্রেন ফের চালু করে জনদুর্ভোগ লাঘব করুন। এতে করে ময়মনসিংহ-ভৈরব রেলপথে চলাচলকারী সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি রেলওয়ের আয়ও বাড়বে।

Advertisement