
প্রতিটি সমাজ ও রাষ্ট্রের নিজস্ব আইন থাকে। সেসব মেনে সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। এর ব্যত্যয় হলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের নানা অঙ্গনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হয়েছিল। ধারণা করা হয়েছিল, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এলে সেই অবস্থার অবসান হবে। কিন্তু তা হয়নি। এখনো যেন পরিকল্পিত সেই আগের অবস্থা সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হচ্ছে। মানুষকে অসহিষ্ণুতা উসকে দেয়া হচ্ছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে। একে অন্যের সম্পদ ধ্বংস করছে, দখল করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে টঙ্গিতে একটি মাদরাসায় এক নারী শিশুশিক্ষার্থীকে চুমু দেয়ার অভিযোগে তার অভিভাবক দলবলসহ মাদরাসায় এসে অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রকাশ্যে মারধর করে এবং মাদরাসায় ভাঙচুর চালায়।
পাবনায় একটি মহিলা মাদরাসার ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষককে আটক করা হয় এবং সেই সাথে মাদরাসায়ও আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। সামাজিক এসব ঘটনার পাশাপাশি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটছে উদ্বেগজনক হারে। গত শুক্রবার ভোলার লালমোহনে বাগি¦তণ্ডার জেরে মো: ফিরোজ নামের যুবদল নেতাকে এবং বরিশালের উজিরপুরে পূর্ববিরোধের জেরে কাওছার হাওলাদার নামের একই দলের এক কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় দলীয় কোন্দল ও অন্তর্কোন্দলে ৭৩ জন নিহত এবং ছয় হাজার ৪৭৩ জনের অধিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।
সামাজিক এবং রাজনৈতিক এই অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা দেশের জন্য মোটেই ভালো কোনো লক্ষণ নয়। এগুলো দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি বিদেশী বিনিয়োগেরও অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।
কোনো সমাজই অপরাধমুক্ত নয়। অপরাধের বিচার করার জন্য রাষ্ট্রীয় কাঠামো আছে। ব্যক্তি নিজের হাতে বিচারের ভার তুলে নিতে পারে না। কিন্তু এখন সমাজে সে কাজটিই হচ্ছে। মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। দেশের মানুষকে এ অবস্থা থেকে বের করে আনতে হবে। এখানে সরকারের ভূমিকা মুখ্য। আমরা অনেক ক্ষেত্রে দেখছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো সামাজিক এসব অপরাধ রুখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বরং অনেকটা দায়সারা দায়িত্ব পালন করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরবতা ভাঙতে হবে।
রাজনৈতিক শক্তিগুলো সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিরাট ভূমিকা পালন করে। তারাই যখন এসব অশান্তি সৃষ্টি করে তখন সমাজ অসহায় হয়ে পড়ে।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানুষের একটি মনোজাগতিক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। দেশের মানুষ আর অতীতের মতো অস্থিতিশীল পরিবেশ দেখতে চায় না। সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশ পিছিয়ে পড়ুক, বিদেশী বিনিয়োগ বিঘ্নিত হোক, তা আর কারো কাম্য নয়। এমতাবস্থায় সরকারি দলসহ দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা। সরকার ও বিরোধী দলকেও একযোগে এই অস্থির অবস্থা মোকাবেলায় কাজ করতে হবে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে মানুষকে উৎসাহিত করা তাদের দায়িত্ব।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








