
বাংলাদেশ অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ। এদেশে পর্যাপ্ত খোলা জায়গার অভাব। কয়েক দশকে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণে তা আরো সঙ্কুচিত হয়েছে। যদিও এ সময়ে দেশের জনসংখ্যা আরো বেড়েছে। বেড়েছে শিশু-কিশোর ও স্কুল পড়ুয়াদের সংখ্যা। বর্ধিত জনসংখ্যার জন্য নেই প্রয়োজনীয় খেলাধুলার জায়গা। এমন বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশে কমপক্ষে এক হাজার খেলার মাঠ প্রস্তুত করতে বলেছেন তিনি। সত্যিকার অর্থে এটি বাস্তবায়িত হলে নতুন প্রজন্মের জন্য সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরি হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডে অন্তত একটি খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪০টি এবং দক্ষিণে ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তোলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসংখ্যা ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখের বেশি। সে ক্ষেত্রে দুটো ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ জনসংখ্যা তিন লাখ পর্যন্ত, তিনটি হলে সাড়ে চার লাখ পর্যন্ত হতে পারে। সেই অনুযায়ী, একেকটি ওয়ার্ডে কিশোর তরুণের সংখ্যা হাজার হাজার। তাই একটি বা দু’টি মাঠ কোনোভাবে যথেষ্ট নয়। তার পরও প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ ইতিবাচক।
শহরে দখল হয়ে থাকা খাসজমি, পরিত্যক্ত জায়গা কম নেই। দুর্ভাগ্য হচ্ছে— প্রভাবশালীরা এসব জায়গা দখল করে নিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে যদি এই ধরনের সম্পদ উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়া হতো তাহলে প্রতিটি ওয়ার্ডে নিঃসন্দেহে একাধিক খেলার মাঠ তৈরি করা যেত। সরকার ঘোষণা না দিলেও অভ্যন্তরীণভাবে এই ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে। দেশের চার হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শহরের তুলনায় গ্রামে জনঘনত্ব কম। ওয়ার্ডের তুলনায় একটি ইউনিয়নে জায়গা সাধারণত অনেক বেশি। এখানেও খাসজমি ও পতিত জায়গা পাওয়া যাবে। গ্রামে মাঠের জন্য জায়গা পাওয়া খুব একটা কঠিন হবে না। আন্তরিক প্রচেষ্টা চালালে সরকার সারা দেশে মাঠের জন্য জায়গা পাবে। ২৭টি জেলায় এ জন্য ইতোমধ্যে ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে।
দেশের শহরাঞ্চল কংক্রিটের জঞ্জালে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ শহর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া গড়ে তোলা হয়েছে। খেলার মাঠ দূরের কথা, হাঁটাচলার জায়গাও নেই। শহরের বেশির ভাগ জায়গা বসবাসের জন্য আর উপযুক্ত নেই। দেশের সব শহরের ব্যাপারে এ কথা সত্য। এখন গ্রামেও অপরিকল্পিত বসতি গড়ে উঠেছে। সেখানেও খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের কথা কেউ ভাবছেন না। এভাবে একটি জাতির সুস্থ বিকাশ সম্ভব নয়।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে নেয়া উদ্যোগ যেন মানুষের জায়গা জমি দখল কিংবা অন্য কোনো মন্দ উদ্দেশ্যে ব্যবহার না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। অনেক সময় অসৎ রাজনৈতিক নেতাকর্মী একে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যবহার করতে পারেন। অন্যের জায়গা সম্পদ দখলে কাজে লাগাতে পারেন। সরকারকে এটিও খেয়াল রাখতে হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








