
বাংলাদেশের সাথে চিকিৎসা পর্যটনে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান।
দক্ষিণ এশিয়ার এ দুই দেশের মধ্যে পর্যটন অংশীদারিত্ব ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ জোরদারে চিকিৎসাসেবা গ্রহণকে কেন্দ্র করে ভ্রমণ একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হতে পারে বলে মনে করছে দেশটি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার এ আগ্রহের কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘প্রচলিত পর্যটনের বাইরে চিকিৎসা পর্যটনের মতো ক্ষেত্রও রয়েছে, যেখানে আমরা ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছি।’
চিকিৎসাসেবাকেন্দ্রিক পর্যটনের সম্ভাবনা তুলে ধরে পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, দেশটির চিকিৎসা খাতের প্রতিনিধিত্বকারী দু’টি কোম্পানি এবারের প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ বিশেষায়িত পর্যটন খাতে সুযোগ অনুসন্ধানে পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রতিফলন ঘটেছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ অংশগ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসায়িক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে মতবিনিময় এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসা পর্যটনে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
হায়দার বলেন, প্রচলিত অবকাশযাপনকেন্দ্রিক ভ্রমণের বাইরেও বিশেষায়িত পর্যটনসেবার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে পর্যটন বিনিময় সম্প্রসারণের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি ও পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরিতে পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘দুই দেশের নেতৃত্বই জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পর্যটন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’
পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং একে অপরের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সম্পর্কে জানার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে পর্যটন বাংলাদেশের ও পাকিস্তানের জনগণকে আরো কাছাকাছি আনতে পারে।
তিনি বলেন, দুই দেশেই রয়েছে সমৃদ্ধ পর্যটনসম্পদ। এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক নিদর্শন, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য।
হায়দার বলেন, তুলনামূলক সাশ্রয়ী ব্যয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ উপভোগ করা সম্ভব। ফলে দুই দেশের মধ্যে পর্যটন বিনিময়ের সম্ভাবনা বিশেষভাবে আশাব্যঞ্জক।
জনগণের মধ্যে যোগাযোগভিত্তিক কূটনীতির মাধ্যম হিসেবে পর্যটনকে আরো গুরুত্ব দেয়ার এবং এ খাতে সহযোগিতা জোরদারের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, কূটনীতির এ দিকটিতে আমাদের মনোযোগ দেয়া এবং এ ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরো জোরদারের চেষ্টা করা প্রয়োজন।’
আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলায় পাকিস্তানের
প্রতিনিধিদলকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) প্রতি, বিশেষ করে সংগঠনটির সভাপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান হাইকমিশনার।
নিজেদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগভিত্তিক কূটনীতি জোরদারের প্রচেষ্টায় অবদান রাখার জন্য পাকিস্তানি অংশগ্রহণকারীদেরও প্রশংসা করেন তিনি।
হায়দার আশা প্রকাশ করেন, এ প্রদর্শনী পর্যটনের সুযোগ সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক জোরদার এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পরিধি বাড়াতে সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, আগামী দিনগুলোতে এ সহযোগিতা আরো বাড়বে এবং পর্যটনের সুযোগ সম্প্রসারণ ও এ খাতে সহযোগিতার পরিধি বাড়াতে এই প্ল্যাটফর্ম কাজে লাগানো হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন নাহার চৌধুরী।
টোয়াব আয়োজিত ‘এআই-পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেস্টিনেশন’ প্রতিপাদ্যের তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের অংশগ্রহণে আয়োজিত মেলায় ট্যুর অপারেটর, বিমান সংস্থা, হোটেল, ট্রাভেল এজেন্সি এবং পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের অন্যান্য অংশীজন অংশ নিচ্ছেন।
আয়োজকদের তথ্যমতে, মেলায় ২০০টির বেশি বুথ ও স্টল, ২২০ জনের বেশি প্রদর্শক এবং প্রায় দুই হাজার ৫০০ বাণিজ্যিক দর্শনার্থী অংশ নিচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যটন সহযোগিতা বাড়ানো, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও টেকসই পর্যটন উন্নয়নে উৎসাহ দেয়াই এ আয়োজনের লক্ষ্য। বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








