স্পিকার
জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সাথে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ছবি: নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় এলাকায় তেল-গ্যাস সম্পদ অনুসন্ধানে জার্মানির বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। একই সাথে উপকূলীয় এলাকায় জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধান এবং দেশে সার কারখানা স্থাপনে জার্মান বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে সংসদীয় কমিটি গঠন এবং মৈত্রী গ্রুপের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতি সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জার্মানির পর্যবেক্ষক দলের উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিয়েছে। জার্মানি ও বাংলাদেশ গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে স্পিকার বলেন, পাকিস্তান আমলে দেশ দীর্ঘদিন শোষণ ও গণতান্ত্রিক বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্পিকার আরো বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশের মানুষ বারবার আত্মত্যাগ করেছে।

জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিয়ে বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসন থেকে বের হয়ে একনায়কতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা সুগম করেছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে জার্মান সরকারের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ-জার্মানি সংসদীয় কমিটি গঠন এবং দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মৈত্রী গ্রুপের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতি আরো বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মাধ্যমে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও উঠে আসে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাসের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি দেশে সার কারখানা স্থাপনে জার্মান বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

স্পিকার বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় এলাকায় তেল-গ্যাস সম্পদ অনুসন্ধানে জার্মানির বিশেষজ্ঞ দলকে আমন্ত্রণ জানান। তিনি রাষ্ট্রদূতকে জানান, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি জ্বালানি খাতের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে সম্ভাব্য জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণে বিদেশী প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

এ সময় বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন ও কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় সার উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর সাথে জার্মান বিনিয়োগের সম্ভাব্য সংযোগ নিয়েও মতবিনিময় হয়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ-জার্মানির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সংসদীয় সহযোগিতা, গণতন্ত্র, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।