
রাজধানীর বংশাল থানাধীন সাতরওজা খাজে নেহাল জামে মসজিদের মাদরাসা থেকে নিখোঁজ হওয়া ১১ বছর বয়সী ছাত্র জিসানকে উদ্ধার করেছে বংশাল থানা পুলিশ।
সোমবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। এর আগে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জিসানকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২১ সেপ্টেম্বর আসরের নামাজের পর মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর জিসান নিখোঁজ হয়। পরদিন তার বাবা সাজু মিয়া বংশাল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাশেদুল ইসলাম মাদরাসার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ফুটেজে জিসানকে মাদরাসা থেকে বের হতে দেখা গেলেও এরপর তার গতিপথের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। জিসানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার বাবার ইমুতে অপরিচিত ব্যক্তিরা ফোন করে দাবি করেন, জিসানকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে ছাড়িয়ে নিতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে ১০ হাজার টাকা দিতে রাজি হয়ে সাজু মিয়া একটি বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠান। এরপর আরো টাকা দাবি করা হয়। পুলিশ ওই বিকাশ নম্বরের তথ্য পর্যালোচনা করে এর ঠিকানা গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকায় বলে জানতে পারে। পরে শ্রীপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট বিকাশের দোকান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মাদরাসার এক ছাত্রের মোবাইল ফোন নেয়ার অভিযোগ ওঠার পর ভয়ে জিসান মাদরাসা থেকে বের হয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, ২১ সেপ্টেম্বর জিসান সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে লঞ্চে চাঁদপুরে যায়। সেখানে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকার সৈকত নামে এক অটোমেকানিকের সাথে তার পরিচয় হয়। একই দিন সৈকতের সাথে ঢাকায় ফিরে সে তার গ্যারেজে কাজ করে এবং বাসায় অবস্থান করে। পরে জিসানের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে সৈকত তার খালার সাথে যোগাযোগ করেন।
বংশাল থানা পুলিশ জানিয়েছে, জিসানকে উদ্ধারের পর তার অভিভাবকের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে জিসানের বাবার ইমুতে অপরিচিত ব্যক্তিরা এখনো ফোন করে টাকা দাবি করছে।








