
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে অপরাজিত ২৪২ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলার পথে ব্যক্তিগত কোনো মাইলফলক নিয়ে ভাবেননি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়। তার রেকর্ড গড়া ইনিংসেই টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায় বাংলাদেশ।
দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারানোর পর দলকে ভালো অবস্থানে নেয়াই ছিল তার মূল লক্ষ্য।
হৃদয় বলেন, ‘আমি ভাবিনি কাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছি কিংবা কী অর্জন করতে পারি। যতটা সম্ভব লড়াই করে দলকে ভালো অবস্থানে নেয়ার চেষ্টা করেছি। আমি তখন সেট ছিলাম, দিনটিও ভালো যাচ্ছিল এবং ব্যাটিংয়েও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছিলাম। তাই দলের জন্য যতটা সম্ভব অবদান রাখার চেষ্টা করেছি।’
দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে আজ রোববার বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংসের রেকর্ড গড়েন হৃদয়।
২৫০ রানে পৌঁছানোর সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় কোনো আক্ষেপ নেই তার। ব্যক্তিগত মাইলফলকের চেয়ে সব সময় দলের প্রয়োজনকেই প্রাধান্য দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটার তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন হৃদয়। চাপ সামলে তাদের ব্যাটিং দলকে এই অবস্থানে পৌঁছাতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন তিনি।
হৃদয় বলেন, ‘সেট ব্যাটার হিসেবে যতটুকু সম্ভব পরামর্শ বা পরিকল্পনা দিতে পেরেছি, তাদের পথ দেখানোর চেষ্টা করেছি। তবে তারা যেভাবে ব্যাটিং করেছে, তা অসাধারণ। তাদের প্রচেষ্টার কারণেই দল এই অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছে।’
ইনিংসের শুরুতে লোয়ার অর্ডারের এই দুই ব্যাটারকে যতটা সম্ভব কম বল খেলতে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানান হৃদয়। কারণ, যেকোনো ব্যাটারের জন্য ইনিংসের প্রথম কয়েকটি বল খুব গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের ইনিংস গড়ে তুলতে সতীর্থদের ওপর আস্থা রাখাও জরুরি ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের বিষয়ে হৃদয় জানান, পাল্টা আক্রমণের কোনো পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা ছিল না। বরং ম্যাচের পরিস্থিতিই তাকে এমন ব্যাটিংয়ে উৎসাহিত করেছে।
তিনি বলেন, ‘কখনো কখনো পাল্টা আক্রমণ না করলে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের হওয়া যায় না। কোনো দলকে চাপে ফেলার আগে আমার মনে হয়, একটা পর্যায়ে আমাদেরও পাল্টা আক্রমণ করতে হয়।’
মূলত সাদা বলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত হলেও লাল বলের ক্রিকেটে নিজের কোনো নির্দিষ্ট ব্যাটিং পরিকল্পনা নেই বলে জানান হৃদয়। দলের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের খেলার ধরন বদলাতে পছন্দ করেন তিনি।
হৃদয় বলেন, ‘পরিস্থিতি যদি আক্রমণ দাবি করে, তাহলে আক্রমণ করব। অন্য কিছু প্রয়োজন হলে সেভাবেই খেলার চেষ্টা করব।’
এক-দুই ম্যাচের খারাপ পারফরম্যান্স দিয়ে কোনো খেলোয়াড়কে বিচার না করারও আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, একজন খেলোয়াড় বারবার একই ভুল করলে তখন সমালোচনার যথার্থতা তৈরি হয়।
২৪২ রানের ইনিংসকে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বড় উপলক্ষ হিসেবে দেখছেন হৃদয়। তবে এটিকে ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স বলতে রাজি নন তিনি। বরং অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে টানা তিনটি সেঞ্চুরি করাকে নিজের বিশেষ অর্জনগুলোর একটি হিসেবে স্মরণ করেন।
হৃদয়ের মতে, পেশাদার খেলাধুলায় সমালোচনা থাকবেই। তবে তা ইতিবাচকভাবে নিয়ে শেখা ও উন্নতির কাজে লাগানো উচিত। তিনি বলেন, ‘সমালোচনা সব সময়ই থাকবে। আমরা ভালো করলে আপনারা ইতিবাচক কথা বলেন, আর খারাপ খেললে সমালোচনা হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমি মনে করি, সমালোচনাকে সঠিকভাবে নিতে পারলে তা থেকে শেখার অনেক কিছু আছে।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








