
আফগানিস্তানের প্রধান দাফতরিক ভাষা পশতু, কিন্তু ভারতে এসে হিন্দিতে ধারাভাষ্য দিলেন দেশটির ভাষ্যকার শরাফউদ্দিন শাকির। আর ধারাভাষ্যে তার দুর্দান্ত পারফর্ম দেখে মুগ্ধ হলেন হিন্দিভাষী সুনীল গাভাস্কারের মতো কিংবদন্তি।
শুক্রবার (সেপ্টেম্বর ১৮) ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শাকির মূলত কাবুলে বসে বসে অমিতাভ বচ্চনের সিনেমা দেখতেন। সিনেমা দেখতে দেখতেই তার হিন্দি শেখা। অবশেষে সেই ভাষাতেই দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ধারাভাষ্য দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন তিনি।
অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের ম্যাচটি ছিল ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যকার টি-টোয়েন্টি সিরিজের অংশ। সেখানেই শাকির সাবলীল উচ্চারণে হিন্দিতে ধারাভাষ্য দেন এবং তার প্রশংসা করেন গাভাস্কার।
শরাফউদ্দিন শাকির বলেন, ‘তিনি আমাকে থাম্বস-আপ দেখালেন। বুঝিয়ে দিলেন, আমার হিন্দি উচ্চারণ কতটা পরিষ্কার। তার চোখেমুখেও সেই প্রশংসা ফুটে উঠেছিল।’
শাকির জানান, ছোটবেলা থেকেই বলিউডের ভক্ত তিনি। বিশেষ করে অমিতাভ বচ্চনের। ১৯৯২ সাল। বিগ বি-র ‘খুদা গাওয়া’র শুটিং হয়েছিল কাবুল, কুন্দুজ, বাঘলানের মতো আফগান প্রদেশে। সেই ছবি তার মনে গভীর প্রভাব ফেলে। সেই শুরু। এরপর বচ্চনের সিনেমা দেখতে দেখতেই হিন্দি ভাষা রপ্ত করে ফেলেন শাকির।
তিনি বলেন, ‘কাবুলের এক পাঠান আজ ভারতের মাটিতে হিন্দিতে ধারাভাষ্য দিচ্ছে। এর থেকে আনন্দের আর কী হতে পারে!’
গত ১৫ বছর ধরে পশতু ভাষায় ধারাভাষ্য দিচ্ছেন শাকির। ২০১৭ সালে আয়ারল্যান্ড সিরিজের সময় প্রথমবার ভারতে এসেছিলেন। তবে এবারের অভিজ্ঞতা তার কাছে একেবারেই অন্য রকম।
কমেন্ট্রি বক্সে সঞ্জয় মঞ্জরেকর, সুনীল গাভাস্কার, অজয় জাদেজার মতো সাবেক তারকাদের পাশে বসার সুযোগ পেয়েছেন। জাদেজাকে দেখে তার মন্তব্য, ‘একটা সময় আপনাদের টিভিতে দেখে স্বপ্ন দেখতাম। আর আজ সৃষ্টিকর্তা এমন দিন দিয়েছেন, আপনাদের পাশে বসে ধারাভাষ্য দিচ্ছি।’
শাকির আফগানিস্তানের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটও খেলেছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করে তিনি আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সাথে যুক্ত হন। সেখানে সিইও-র দফতর, হিউম্যান রিসোর্স, গেম ডেভেলপমেন্ট, মিডিয়া বিভাগে কাজ করেছেন। আফগান ক্রিকেটের উত্থান খুব কাছ থেকে দেখেছেন। আফগানিস্তানে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ায় গর্বিত শাকির। এখন দেশটিতে বছরে অন্তত ১৫টি ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতা হয়। এর মধ্যে শপাগিজা লিগ অন্যতম।
শাকির নিজে আইসিসি স্বীকৃত লেভেল-১ কোচ। ধারাভাষ্যকার হিসেবে তার আদর্শ রবি শাস্ত্রী এবং নভজ্যোত সিং সিধু। সিধুর ধারাভাষ্যের ধরন এতটাই পছন্দ তার যে, পশতু ভাষায় ধারাভাষ্য দেয়ার সময়ও কখনো কখনো সিধুর জনপ্রিয় সংলাপ ব্যবহার করেন।
একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগানিস্তানের তেমন পরিচিতি ছিল না। সেই সময়ে শচীন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড়দের খেলা দেখেই ক্রিকেটের পাঠ নিয়েছেন। সময় বদলেছে। আফগান ক্রিকেটের রশিদ খান, মোহাম্মদ নবিরা এখন ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেও জনপ্রিয়। আর সেই বদলে যাওয়া আফগান ক্রিকেটেরই এক প্রতিনিধি শাকির। যিনি হাজার হাজার মাইল দূরে বসে যে ভাষা শিখেছিলেন, আজ সেই হিন্দিতেই ভারতীয় দর্শকদের সামনে ক্রিকেটের গল্প শোনালেন।







