
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি পালনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন এবং কয়েকজন সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলা সদর থানার সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
থানা ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৬ তারিখ রাতে পৃথক কর্মসূচির খবর পেয়ে জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: বন্দে আলী উভয় পক্ষের নেতাদের সাথে আলোচনা করেন। এ সময় আহ্বায়ক শফিকুর রহমান ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাহ মো: শাহজাহান গ্রুপকে জামালগঞ্জ থানা পর্যন্ত এবং যুগ্ম আহ্বায়ক-১ আ: মালেক গ্রুপকে হাসপাতাল গেট পর্যন্ত কর্মসূচির স্থান নির্ধারণ করে দেন ওসি। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানালে উভয় পক্ষ তাতে সম্মতি জানায়।
আজ শনিবার আহ্বায়ক শফিকুর রহমান গ্রুপ তাদের নির্ধারিত স্থান থানা পর্যন্ত মিছিল নিয়ে এলে অপর গ্রুপ তাদের নির্ধারিত স্থান অতিক্রম করে থানার গেইটের সামনে চলে আসে। এতে উভয় গ্রুপই মুখোমুখি হয়ে যায়।
পরে নেতাকর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও পাল্টাপাল্টি ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির নেতাকর্মীদের মধ্যে দলীয় গ্রুপিং চলছে। ৭ নভেম্বরকে ঘিরে নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন।
ঘটনার দিন মিছিলে এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুর রহমান ও সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান, জুলফিকার চৌধুরী রানা, মোহাম্মদ আলী, শামসুজ্জামান ধন মিয়া, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুক মিয়া, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা ও ভীমখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান তালুকদার, কৃষকদলের আহ্বায়ক মোবারক হোসেন ও সদস্যসচিব আসাদনুর সাদী, মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীনসহ অন্য নেতাকর্মীরা।
অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক-১ আব্দুল মালিক ও আজিজুর রহমান, মাসুম মাহমুদ তালুকদার, আজাদ হোসেন বাবলু, এমদাদুল হক আফিন্দী, ফরিদ মিয়া তালুকদার, আলী আক্কাস মুরাদ, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুর রহমান হিরন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ওয়াহিদুর রহমানসহ অন্য নেতাকর্মীরা।
জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: বন্দে আলী বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষ পৃথক মিছিল বের করে। মিছিল দু’টি থানার সামনের সড়কে এলে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
তিনি আরো বলেন, এর আগে আমি উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির জন্য স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম। তারাও সম্মতি দিয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলের কাছে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।
ওসি আরো বলেন, এ ঘটনায় এমপি মহোদয় তাৎক্ষণিক তাহিরপুর থেকে তার কয়েকজন প্রতিনিধি পাঠিয়ে বিষয়টি সমাধানের জন্য আশ্বস্ত করেছেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








