নড়াইলে হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের বাদ দেয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন
ভদ্রবিলা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। নয়া দিগন্ত

নড়াইল সদরের পলইডাঙ্গা গ্রামে চাঞ্চল্যকর মোস্তফা কাজী (৭৫) হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।

Advertisement

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে ভদ্রবিলা ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে ভদ্রবিলা বাজারে মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বক্তব্য রাখেন-মামলার বাদী কাজী আমজাদ হোসেন, মুনসুর আলী খান, জুলাই যোদ্ধা শফিকুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, শেখ, জামান শেখ, রেসপিয়ারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।

Advertisement

বক্তারা অভিযোগ করেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নড়াইল সদর থানার এসআই সাগর সিকদার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত না করে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে মামলার প্রধান আসামি ইমরুল, হুমায়ুন, তরিকুল, আকিবসহ ১৯ জনকে বাদ দিয়ে নয়জনের নামে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গঠন করেছেন। মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের বক্তব্য ও মামলার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এ বিষয়ে গত বুধবার আদালতে না-রাজি প্রদান করা হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, মোস্তফা কাজী হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিরা অভিযোগপত্র থেকে বাদ পড়লে প্রকৃত অপরাধীরা বিচারের বাইরে থেকে যাবে। এতে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই দ্রুত মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। এছাড়া এসআই সাগরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগেরও তদন্ত হওয়া দরকার।

এদিকে, মোস্তফা কাজী হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাগর বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ঠিক নয়। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং তথ্য প্রযুক্তি ও স্থানীয় সোর্স ব্যবহার করেছি। এসবের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

ভুক্তভোগীরা জানান, স্থানীয় মাঠে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে পলইডাঙ্গা-মহারাগ এবং ভদ্রবিলা গ্রামের তরুণ ও যুবকদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য গত ৩ জুলাই বিকেলে মোন্তফা কাজী বাড়ি থেকে স্থানীয় বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কলাগাছের ঝোপের মধ্যে ওত পেতে থাকা আসামিরা পরিকল্পিতভাবে মোস্তফা কাজীকে কুপিয়ে এবং হাতুড়িপেটা করে হত্যা করে। এ ঘটনায় ২৮জনকে আসামি করে গত ৪ জুলাই নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেন নিহত মোস্তফা কাজীর ছেলে কাজী আমজাদ হোসেন ।