উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ
উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ। নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের অনলাইন সংস্করণে সংবাদ প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

Advertisement

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে চর শালেপুর ও চর মির্জাপুর এলাকার পদ্মা নদীতে নির্মিত অবৈধ বাঁশের বাঁধ, মাটির বাঁধ ও মাছ ধরার ফাঁদ অপসারণ করা হয়। এ সময় ২০টি চায়না জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

এর আগে, আজ শুক্রবার সকালে নয়া দিগন্তের অনলাইন সংস্করণে ‘চরভদ্রাসনে এমপির নির্দেশেও উচ্ছেদ হয়নি পদ্মার অবৈধ বাঁধ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। যা প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়।

Advertisement

চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: জুলহাস হোসেন সৌরভের নেতৃত্বে চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের চর শালেপুর ও চর মির্জাপুরের মধ্যবর্তী পদ্মার সংযোগস্থলে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সশস্ত্র আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান চলাকালে নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে আড়াআড়িভাবে নির্মিত বাঁশের বেড়া, মাটির বাঁধ ও সূক্ষ্ম ফাঁদের জাল অপসারণ করা হয়। পরে উচ্ছেদ করা বাঁধের বাঁশগুলো ঘাটে এনে প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি করা হয়। নিলামে বাঁশগুলো পাঁচ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মা নদীর চর শালেপুর ও চর মির্জাপুর এলাকার মধ্যবর্তী অংশে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ শিকারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এতে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মাছের অবাধ বিচরণ ও প্রজনন ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে সাধারণ জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে না পেরে জীবিকা নির্বাহে নানা সমস্যার মুখে পড়ছিলেন। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে এসব অবৈধ বাঁধ নির্মাণের অভিযোগ ওঠে।

এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী জেলেরা অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদের দাবিতে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো: শহিদুল ইসলাম বাবুলের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

তবে সংসদ সদস্যের নির্দেশনার ১৮ দিন পার হলেও বাঁধ উচ্ছেদ না হওয়ায় আজ ৬ নভেম্বর সকালে দৈনিক নয়া দিগন্তের অনলাইন সংস্করণে ‘চরভদ্রাসনে এমপির নির্দেশেও উচ্ছেদ হয়নি পদ্মার অবৈধ বাঁধ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে অবৈধ বাঁধ উচ্ছেদ ও চায়না জাল ধ্বংস করায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে।

অভিযানের পর ভুক্তভোগী জেলেরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বাঁধের কারণে তারা পদ্মা নদীতে স্বাভাবিকভাবে মাছ ধরতে পারছিলেন না। প্রশাসনের এ উদ্যোগে তারা নতুন করে আশার আলো দেখছেন। এ সময় তারা সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনা সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: জুলহাস হোসেন সৌরভের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় জেলেদের প্রত্যাশা, শুধু এক দিনের অভিযানেই যেন প্রশাসনের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না থাকে। ভবিষ্যতে কেউ যাতে আবার পদ্মা নদীতে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করে মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও সাধারণ জেলেদের জীবিকা বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেজন্য নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে হবে।