
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে গৃহবধূ ফারহানা ইয়াসমিন শীলার (৪৩) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী রাসেল মাহমুদ বয়াতীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে স্বজন ও এলাকাবাসী। পরে বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী রাসেলসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করেছে রাঙ্গাবালী থানা পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা সদরের বাহেরচর বাজারে মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রাঙ্গাবালী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন তারা।
এ সময় থানার মূল ফটকের সামনে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। আন্দোলনকারীরা শীলার মৃত্যুর ঘটনায় মামলা গ্রহণ করে স্বামী রাসেলকে গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়। এরপর দুপুর ২টার দিকে পুলিশ মামলা নেয়া আশ্বাস দিলে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন বিক্ষোভকারীরা। এর পরপরই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে শীলার স্বামী রাসেল মাহমুদ এবং রাসেলের সহযোগী হিসেবে তার চাচাতো ভাই সোহান বয়াতীর বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহত শীলার ছোট ভাই রাইসুল ইসলাম কমল।
নিহত শীলার মেয়ে লাবিবা অভিযোগ করে বলেন, তার মাকে প্রতিদিন নির্যাতন করা হতো। প্রায় প্রতিদিনই তিনি মাকে কাঁদতে দেখতেন। কোনোদিন শান্তিতে ঘুমাতে দেখেননি। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মাকে মারধর ও কষ্ট দেয়া হতো। তিনি মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
শীলার ছেলে রাফিন বলেন, তার মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি এখনো বাইরে রয়েছেন। কীভাবে তিনি বাইরে আছেন, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। এটি নিশ্চিতভাবে হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনায় আরো কেউ জড়িত থাকতে পারে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
নিহতের ছোট ভাই ও মামলার বাদি রাইসুল ইসলাম কমল বলেন, তারা এ ঘটনার বিচার চান। মামলা চলমান রাখতে হবে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে হবে। তারা রাসেলের ফাঁসি চান। অন্যথায় বারবার থানার সামনে এসে প্রতিবাদ করবেন।
নিহতের চাচাতো ভাই জাহিদুল ইসলাম সাগর বলেন, আত্মহত্যা কিংবা হত্যা-যেটাই হোক, প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ দুই ক্ষেত্রেই রাসেল দায়ী বলে তারা মনে করেন। দ্রুত তাকে আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে যে আইনি ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন, তা ইতোমধ্যে নেয়া হয়েছে। প্রথমে অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছিল। পরের ধাপে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তবে পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা নেয়া হয়েছে। এতে রাসেল ও তার চাচাতো ভাই সোহানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ জন্য অভিযান চলছে।’
উল্লেখ্য, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাহেরচর বাজার এলাকার নিজ বসতঘর থেকে শীলার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সুরতহাল শেষে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। শীলার বাবা প্রয়াত সাজাদুল ইসলাম শামীম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার স্বামী রাসেল মাহমুদ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। রাসেল ও শীলা দুজনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে।
শীলার লাশ উদ্ধারের পর স্বামী রাসেলের দাবি ছিল, শীলা আত্মহত্যা করেছেন। তবে, নিহতের স্বজনরা শুরু থেকেই দাবি করেন, আত্মহত্যা কিংবা হত্যা-যেটাই হোক, শীলার মৃত্যুর জন্য রাসেলই দায়ী।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








