এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
ঘোড়াঘাট সরকারি কলেজ, দিনাজপুর। নয়া দিগন্ত

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো এবারো চরম ফল বিপর্যয় ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটির অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক চরম গাফিলতির কারণে গত ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালের সদ্য প্রকাশিত ফলাফলে কলেজের পাসের হার আরো নিচে নেমে গেছে। 

Advertisement

উপজেলার উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের প্রধান একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন নজিরবিহীন ও হতাশাজনক ফলাফলে ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত স্থানীয় অভিভাবক এবং সচেতন মহল। এ ছাড়া ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই কলেজটিকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী ঘোড়াঘাট সরকারি কলেজ থেকে সর্বমোট ২৪৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে চূড়ান্তভাবে পাস করতে পেরেছে মাত্র ৪৯ জন শিক্ষার্থী। বাকি ১৯৬ জন পরীক্ষার্থীই এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য বা গণফেল করেছে। ফলে এই সরকারি কলেজে এবারের পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০ শতাংশে। এছাড়া জিপিএ ৫.০০ প্রাপ্তির সংখ্যাও শূন্য।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, কলেজটিতে এই ফল বিপর্যয় এবারই প্রথম নয়। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষাতেও প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২০৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৫০ জন পাস করেছিল এবং সেবার পাসের হার ছিল ২৩.৯২ শতাংশ। সচেতন মহলের আশা ছিল বিগত বছরের বড় ধাক্কা সামলে এবার কলেজ প্রশাসন সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে; কিন্তু বাস্তব চিত্রে দেখা গেল পাসের হার গতবারের চেয়ে আরো ৩.৯২% কমে ২০ শতাংশে এসে ঠেকেছে, যা কলেজের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনার চরম ব্যর্থতা।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, সরকারি কলেজের এই ক্রমাগত ধসের পেছনে নিয়মিত ক্লাসের অভাব, শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহির ঘাটতিসহ সঠিক তদারকির অভাবই মূল কারণ। উপজেলার অভিভাবকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কলেজ প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

ফলাফলের এই নজিরবিহীন ধসের বিষয়ে ঘোড়াঘাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এস এম মনিরুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি দায়সারাভাবে জানান, রেজাল্ট খুব একটা ভালো হয় নাই, এ বিষয়ে পরে কথা বলব।

এদিকে সরকারি কলেজের এই ক্রমাগত ফল বিপর্যয় এবং উপজেলার সামগ্রিক শিক্ষার করুণ চিত্র নিয়ে কঠোর অবস্থান নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন বলেন, ‘আমি ঘোড়াঘাটে যোগদানের পর থেকেই দেখতে পাচ্ছি, বিশেষ করে উপজেলা সদরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার অবস্থা খুবই করুণ। ঘোড়াঘাট সরকারি কলেজের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ফলাফল খুবই হতাশাজনক। এভাবে একটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আরো বেশি মনিটরিং বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং এ বিষয় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

সচেতন মহলের সহ অভিভাবকদের দাবি, দ্রুত এই ফল বিপর্যয়ের স্থায়ী কারণ অনুসন্ধান ও প্রশাসনিক কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা না হলে এলাকার উচ্চশিক্ষার মান পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পড়বে।

উল্লেখ্য, এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে পুরো উপজেলা মিলিয়ে মোট ৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। উপজেলায় এইচএসসি, আলিম ও কারিগরি শাখায় পৃথকভাবে পাসের হার যথাক্রমে ৩০, ৩৭ দশমিক ৬০ ও ৪৩ শতাংশ।