
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে শতভাগ ব্যর্থ হয়েছে। এ কমিশন হলো একটি অথর্ব ও ক্যাঙ্গারু নির্বাচন কমিশন। গত ২৯ অক্টোবর সরকার ও বিএনপি নেতাদের সাথে আঁতাত করে একটি প্রহসন এবং নাটকের নির্বাচন তারা রচনা করেছে। আমরা স্পষ্ট করে বলছি, ব্যর্থতার দায় নিয়ে অবিলম্বে এ নির্বাচন কমিশনকে পদত্যাগ করতে হবে।’
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের জুলাই চত্বরে ঠাকুরগাঁওয়-১ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের প্রতিবাদে জেলা জামায়াত আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায়, আমরা দ্রুত সময়ের ভেতর পরবর্তী কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব। পরিকল্পিত এ ভোট কারচুপির বিরুদ্ধে আমরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক যে ফল তৈরি করা হয়েছে, তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য এক কালো অধ্যায়। অনতিবিলম্বে এসব সহিংসতা বন্ধ ও অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে দেশের নির্বাচনগুলোতে যে ধরনের ভোট ডাকাতি ও কারচুপি হয়েছিল, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্যদিয়ে শুরু হয়ে শেরপুর, বগুড়া এবং সর্বশেষ ঠাকুরগাঁও-১ আসনে আমরা সেই একই চিত্র দেখলাম। এ নির্বাচনগুলোই প্রমাণ করে দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না।’
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘আপনারা সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে দেখেছেন নির্বাচনে কীভাবে জালিয়াতি ও ভোট ডাকাতি হয়েছে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়েছে। আমরা আগেই বলেছিলাম, অনেকত কেন্দ্র থেকে পোলিং অ্যাজেন্টদের বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতা-কর্মীরা নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচনের পরে ঠাকুরগাঁওয়ে-১ আসনের দাঁড়িপাল্লার কর্মী সমর্থকদের ওপর নির্মমভাবে হামলা চালিয়েছে। অনেকে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। অনেকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। নারী কর্মীদেরও তারা ছাড়েনি, একজন নারী কর্মীকে তারা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ জনগণ এসব অন্যায় জুলুমের উপযুক্ত জবাব অবশ্যই দেবে।’
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর, প্রেস সেক্রেটারি অধ্যক্ষ শাহ জালাল জুয়েল, শহর আমির অধ্যক্ষ মাওলানা শামসুজ্জামান শাহ শামীম, সদর উপজেলা আমির মাওলানা মিজানুর রহমান প্রমুখ।
ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনে ভোট কারচুপি, জালভোট প্রদান, নির্বাচনী অ্যাজেন্ট ও কর্মীদের ওপর আক্রমণ বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাঙচুর, ফলাফল জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অনিয়েমের প্রতিবাদে জেলা জামায়াত এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে আয়োজন করে। বিকেলে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড জুলাই চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌরাস্তা মোড় হয়ে পুনরায় বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের দিন থেকেই ভোটে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ করে আসছেন জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








