
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেড়া রেলস্টেশন এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় রাজশাহী-ঢাকা রেলপথে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে এই রুটের একাধিক ট্রেন নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা পর চলাচল করছে। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
বিশেষ করে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে রাজশাহী থেকে অন্যান্য রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজশাহী রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ট্রেনের অপেক্ষায় স্টেশনের বিভিন্ন স্থানে বসে আছেন যাত্রীরা। তাদের মধ্যে অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাজশাহীর খেতুরীধামের উৎসবে যোগ দিতে এসেছিলেন। উৎসব শেষে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিলেও ট্রেনের বিলম্বে আটকে পড়েছেন স্টেশনে।
এ সময় দেখা যায়, যাত্রীদের কেউ কেউ মেঝেতে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন, কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসে খাবার খাচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছাড়বে কি-না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।
রাজশাহী রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী বনলতা এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটের পরিবর্তে রাত ১২টা ৫ মিনিটে স্টেশনে পৌঁছায়। একইদিন রাত ৮টা ২০ মিনিটে রাজশাহী পৌঁছানোর কথা ছিল সিল্কসিটি এক্সপ্রেসের। তবে প্রায় ছয় ঘণ্টা বিলম্বে রাত ২টা ১৫ মিনিটে স্টেশনে পৌঁছায় ট্রেনটি।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ধূমকেতু এক্সপ্রেসের ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি শুক্রবার ভোর ৪টা ২০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে।
শুক্রবার সকালেও ট্রেন চলাচলের সময়সূচিতে বিপর্যয় দেখা যায়। রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের পরিবর্তে দুই ঘণ্টা দেরিতে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যায়। এছাড়া ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ধূমকেতু এক্সপ্রেসের শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী পৌঁছানোর কথা থাকলেও বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছায়নি। ট্রেনটি রাজশাহী পৌঁছানোর পর পদ্মা এক্সপ্রেস হিসেবে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
রাজশাহী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো: জাহিদ গণমাধ্যমকে বলেন, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেড়া রেলস্টেশন এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ার প্রভাব পড়েছে রাজশাহী-ঢাকা রুটের ট্রেন চলাচলে। এ কারণে ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়ে চলাচল করতে পারছে না। দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








