
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বিএনপির একাংশের দুই নেতাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে গুণধর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি দলীয় এক সভায় দেয়া তার এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়। ভুক্তভোগী বিএনপি নেতার দাবি, স্থানীয় এক মাদরাসার বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে ভূমিকা রাখায় তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) হুমকি দেয়ার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে, শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে গুণধর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় এ হুমকি দেয়ার ঘটনা ঘটে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে সিরাজুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, বিএনপির সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) মেজবাহউদ্দিন টুটুলের সমালোচনা করলে হাত-পা ভেঙে পঙ্গু করে দেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে হতাহত করা হবে এবং সেই হতাহত তিনি নিজেই করবেন। এ সময় তিনি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুনু দরবারী এবং করিমগঞ্জ উপজেলার সাবেক ছাত্রদল নেতা তাজুল ইসলামের নাম উল্লেখ করেন।
বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, পিএ মেজবাহউদ্দিন টুটুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে যেসব পোস্ট ও সমালোচনা হচ্ছে, সেগুলোর বিষয়ে তারা দাঁতভাঙা জবাব দেবেন।
বিতর্কিত ওই বক্তব্য দেয়ার সময় সিরাজুল ইসলামের দুই পাশে বসা ছিলেন চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার দুই আসামি। এরমধ্যে সিরাজুল ইসলামের চাচাতো ভাই মো: আতিকুল্লাহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলার পলাতক আসামি। অন্যজন গুণধর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান তোফায়েল আহম্মদ জাহিদ, যিনি স্ত্রী হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ১৩ বছর কারাবাসের পর বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
সিরাজুল ইসলামের বক্তব্যের পর তোফায়েল আহম্মদ জাহিদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘গুণধর ইউনিয়নে যা হবে তা আমাদের নিয়ন্ত্রণে হবে এবং বিএনপির নিয়ন্ত্রণের বাইরে এখানে কোনো কিছু করা যাবে না। চেয়ারম্যান নির্বাচন থেকে শুরু করে স্কুল-মাদরাসা ও জলমহালের নিয়ন্ত্রণ আমাদের নির্ধারিত ব্যক্তির হাতেই দিতে হবে।’ এ সময় তিনি টুটুলের সমালোচকদের ধরে এনে থানায় সোপর্দ করার হুমকি দেন।
সভায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: আশরাফ আলী ও সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিনসহ দলটির একাংশের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রাণনাশের হুমকিপ্রাপ্ত সাবেক ছাত্রদল নেতা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ওরা যেকোনো সময় আমাকে মেরে ফেলতে পারে। এর আগে ওরা ঈদের জামাতে আমাকে আক্রমণ করার জন্য অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘেরাও করেছিল।’
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের সাথে আমার কোনো রাজনৈতিক বিরোধ নেই। গুণধর ইউনিয়নের উরদিঘী আলিম মাদরাসার ৮৮ শতাংশ জমি সিরাজুল ইসলাম ও তার স্বজনরা দখল করে রেখেছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমি মাদরাসার এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে আদালতের মাধ্যমে জমিটি উদ্ধার করি।’
ভুক্তভোগী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি আদালতের রায়ে বেদখল হওয়া জমিটি মাদরাসার দখলে ফিরে যাওয়ায় সিরাজুল ইসলাম ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। বর্তমানে আমি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।’
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: আশরাফ আলী বলেন, ‘রাজনীতিতে মতবিরোধ থাকতে পারে। তবে কাউকে হতাহত করা বা হাত-পায়ের রগ কেটে ফেলার মতো বক্তব্য আমি সমর্থন করি না। ওসমান ফারুকের পিএর সমালোচকদের বিরুদ্ধে আমিও বক্তব্য দিয়েছি, তবে অন্য কোনো বিষয় টেনে নয়।’
অভিযোগের বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘ড. এম ওসমান ফারুক ও তার পিএ টুটুলের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর প্রতিবাদে ওই সভা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত অনেকেই বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন, যা ভিডিওতে রয়েছে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক তার নির্বাচনী এলাকা করিমগঞ্জ ও তাড়াইলে খুব একটা সময় না দিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তার অনুপস্থিতিতে ব্যক্তিগত সহকারী মেজবাহউদ্দিন টুটুলের বিরুদ্ধে সার ডিলার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নিয়োগে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা। এসব বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা সমালোচনার জেরেই মূলত স্থানীয় রাজনীতিতে এ উত্তেজনা ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পিএ মেজবাহউদ্দিন টুটুলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








