
মাদারীপুরে পুলিশের অভিযানে আটক সাতজনকে থানায় নেয়ার সময় পুলিশের সাথে স্থানীয় লোকজনের বাগবিতণ্ডা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হানিফ খান ও সিফাত খলিফা নামের দুই আসামি হাতকড়াসহ পালিয়ে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব মো: অহিদুজ্জামান অহিদ ওই দুই আসামিকে পুলিশের কাছে দিয়ে যান বলে জানা যায়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে পৌরসভার পাকদী এলাকার শাহীন বেকারির মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় পুলিশ সাতজনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে। তারা হলেন পাকদী এলাকার নান্না খলিফার ছেলে সিফাত খলিফা (২৫), হাবিবুর রহমানের ছেলে হানিফ খান (৪০), মরহুম ডাবলু খলিফার ছেলে আরিফ খলিফা (২৯), মরহুম রকিব খানের ছেলে শ্রাবণ খান (১৮), জাহাঙ্গীর আলম সরদারের ছেলে ইয়ারসিন সরদার (১৮), মনির মাতুব্বরের ছেলে রমজান মাতুব্বর (১৮) এবং মরহুম দবির মুনশির ছেলে মো: মঈন মুনশি (২২)। তাদের মধ্যে হানিফ ও সিফাত হাতকড়াসহ পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর মডেল থানা-পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে পৌরসভার পাকদী এলাকার তাজন নেছা স্মৃতি সংঘ নামের একটি ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিভিন্ন অভিযোগে সাতজনকে আটক করে পুলিশ। তাদের থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন বাধা দেন। এ নিয়ে পুলিশের সাথে তাদের বাগবিতণ্ডা হয়।
পরে আটক ব্যক্তিদের নিয়ে থানায় ফেরার সময় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদের উপস্থিতিতে স্থানীয় লোকজনের ওপর লাঠিপেটা করে পুলিশ। লোকজনের ভিড়ের মধ্যে এ সময় হানিফ খান ও সিফাত খলিফা হাতকড়াসহ পালিয়ে যান বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। পরে প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব মো: অহিদুজ্জামান অহিদ তাদের পুলিশের কাছে দিয়ে যান বলে জানা গেছে।
তবে আসামি পালানোর বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে কৃষক দলের নেতা মো: অহিদুজ্জামান অহিদ বলেন, ‘পুলিশ দুই আসামি ভুলে রেখেছিল। ওখানেই থুয়ে গেছিল। পরে তারা আইয়া লইয়া গেছে। অন্য কিছু হয় নাই। আসামিরা কেউ অন্যহানে যায় নাই। পুলিশ বলছে, ওগের ছাইড়া দিবে। কোনো অপরাধ তো পায় নাই। এইডা নিয়া আর কি মামলা হইবো আর।’
অহিদুজ্জামান আরো বলেন, ‘পুলিশের অভিযানের সময় পাঁচ থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে পুলিশের পিকআপে দু’জনকে তুলতে ভুল হয়। এরপর আরেকটি পিকআপ এসে তাদের নিয়ে যায়।’
এ ঘটনায় অন্য কোনো সমস্যা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকদী এলাকার একাধিক ব্যক্তি বলেন, স্থানীয় লোকজনের সাথে পুলিশের বাগবিতণ্ডার সময় ভিড়ের মধ্যে হানিফ খান ও সিফাত খলিফা কৌশলে হাতকড়াসহ সরে পড়েন। লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকায় পুলিশও দ্রুত সেখান থেকে সরে যায়। পরে দুই আসামি হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশ আবার পাকদী এলাকায় অভিযান শুরু করে।
জানতে চাইলে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘পুলিশের হেফাজতে থাকা আসামি পালানোর ঘটনা সঠিক নয়। হানিফ খান ও সিফাত খলিফাকে হাতকড়াসহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ সময় তিনি তার ফোনে ওই দুই আসামির ছবি দেখান। তবে ছবিতে অন্য পাঁচ আসামি ছিলেন না।
ওসি আরো বলেন, ‘ওই ক্লাবে মাদকের কারবার চলে। সেখানে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাদের সরিয়ে আসামিদের থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








