
কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৪) হত্যার ঘটনায় রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সুমন নামে এক অটোরিকশাচালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে জেলার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে যাচ্ছিল না।
তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশ জানায়, ৮ অক্টোবর রাতে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার তিশা বাস কাউন্টারের সামনে থেকে রেসকোর্সের বাসায় যাওয়ার জন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ৩০০ টাকা। পরে চালক সুমন শর্টকাট পথে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে তাকে নির্জন এলাকায় নিয়ে যান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানেই তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যার পর তাজমিনের হ্যান্ডব্যাগ থেকে আইফোন নিয়ে ব্যাগটি ধানখেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান সুমন। পরে কাচিকাটা মসজিদের সামনে একটি পুকুরে গোসল করেন তিনি। সেখান থেকে অন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাখরাবাদ এলাকায় যান। ওই এলাকার একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গলে আইফোনটি লুকিয়ে রেখে চট্টগ্রামে চলে যান তিনি।
তদন্তের একপর্যায়ে ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বাখরাবাদ এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
সুমন চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা। কয়েকবছর আগে বিয়ে করে ঘরজামাই হিসেবে লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামেই বসবাস শুরু করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








