
ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, ‘জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার চলছে। যেগুলো নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছি, সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চাই। আর যেগুলোতে একমত হয়েছি, সেগুলো নিয়ে জুলাই সনদ অনুযায়ী আমরা আগামী দিনের সংবিধান সংশোধন করব।’
তিনি বলেন, ‘যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আবু সাঈদসহ অন্যরা জুলাইয়ে আত্মদান করেছেন, সেই আত্মদানের প্রতি সম্মান রেখে বর্তমান সরকার একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার কাজে আমরা নিয়োজিত।’
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ গেটের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও দোয়া মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যখন জুলাই সনদ স্বাক্ষর করা হয়, তখন ভিন্নমতের (নোট অফ ডিসেন্ট) বিষয়ে বলা হয়েছিল— যে দল জনগণের ম্যান্ডেট বা সমর্থন পাবে, তারা সেই অনুযায়ী এই সনদ বাস্তবায়ন করবে। আমরা যেসব বিষয়ে ভিন্নমত দিয়েছি, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করতে চাই। আর যেসব বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি, সেগুলো মেনে জুলাই সনদ অনুযায়ী আগামী দিনে সংবিধান সংশোধন করা হবে। এ নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
তিনি বলেন, ‘আজকে যে তোরণ তৈরি হচ্ছে, তা সরকারেরই একটি প্রতিষ্ঠান— বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে হচ্ছে। এছাড়া প্রায় ১১০০ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প ইতোমধ্যে জমা দেয়া আছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সব কাজ আমরা শেষ করেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই প্রকল্পের অধীনে চারটি নতুন হল, অ্যাকাডেমিক ভবনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হবে। যেহেতু এটি জুলাই বিপ্লবের পক্ষের আবু সাঈদ সরকার এবং আমরা এই অঞ্চলের উন্নয়ন চাই, তাই আশা করছি চলতি ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই এর টেকনিক্যাল অনুমোদন হয়ে যাবে ইনশাল্লাহ।’
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে বর্তমানে যেসব বিভাগ আছে সেগুলো খুবই সনাতন বা পুরোনো আমলের। ফ্যাসিস্টরা যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে সাজাতে চেয়েছিল, তাতে উত্তরবঙ্গের ছেলেমেয়েরা শিক্ষায় পিছিয়ে পড়বে। তাই আধুনিক বিভাগ— যেমন রোবটিক্স, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), ডেটা সায়েন্স ও অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রির মতো বিষয় চালু করা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে একটি সভা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, বিজ্ঞানভিত্তিক এই আধুনিক সাবজেক্টগুলো আগামী তিন মাসের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আপনারা সবাই যদি সরকারের প্রতি আস্থা রাখেন এবং কোনো ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেন, তবে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের চেহারা পুরোপুরি বদলে দেয়া হবে ইনশাল্লাহ।’
শিক্ষার্থীদের টানা দাবির মুখে দীর্ঘ দুই বছর পর অবশেষে শহীদ আবু সাঈদ গেটের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই এই গেটের সামনে বুক উঁচিয়ে পুলিশের গুলি বরণ করে শহীদ হয়েছিলেন বেরোবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
শহীদ আবু সাঈদ গেটের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ভিসি ড. এম শওকাত আলী, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিইএসসি) চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামুসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থীরা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








