
ঢাকার আশুলিয়ায় রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ও সিল জাল করে মাদরাসার প্রস্তাবিত এডহক কমিটি অনুমোদনের আবেদনের অভিযোগে তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে ভোরে তাদের আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থান অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কমলাকান্তপুর গ্রামের মরহুম কাশেম উদ্দিনের ছেলে এবং আশুলিয়ার শ্রীপুরস্থ ওই মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডক্টর মোহাম্মদ নিয়ামতুল্লাহ (৫০) এবং ঢাকার দক্ষিণখান এলাকার আশকোনার সৈয়দ সাকিব হোসেনের ছেলে ও মাদরাসার কথিত উপ-পরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ সানজিদ (৪৫)।
এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদরাসার প্রস্তাবিত এডহক কমিটির একটি তালিকা অনুমোদনের লক্ষ্যে মাদরাসার নিজস্ব প্যাডে একটি আবেদন তৈরি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই আবেদনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সিল ও রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর জাল করে তা মূল বা খাঁটি দলিল হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চালানো হয়।
পরবর্তীতে সেই জালিয়াতিযুক্ত আবেদন ও কমিটির তালিকাটি ঢাকার বছিলায় অবস্থিত ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেয়া হয়। বিষয়টি রাষ্ট্রপতির নজরে আসার পর তিনি এ নিয়ে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে এই স্বাক্ষরটি জাল।
পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসারের (পিএলও) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার (এসপি) ও ডিআইজি কার্যালয়কে অবহিত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়।
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় আশুলিয়া থানার এসআই মেরাজুল ইসলাম সোহাগ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালিয়ে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডক্টর মোহা: নিয়ামতুল্লাহ ও কথিত উপ-পরিচালক সৈয়দ সানজিদকে হেফাজতে নেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বরাতে পুলিশ জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে যেকোনো সময়ে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কার্যালয়ে বসেই আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর ও সিল জাল করেন।
এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত পাঁচজনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন, মাদরাসার পরিচালক সৈয়দ আলী রায়হান ওরফে রুন্নান, জামগড়ার গাজী লিটন ও বিপ্লব।
আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ এজাহারভুক্ত দু’জনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলায় এজাহারনামীয় পাঁচজন ও অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার সাথে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ওসি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








