রূপগঞ্জে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পাড়ে হাজারো দর্শক ভিড় করেন
১৫ বছর পর আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ দেখতে বিপুল পরিমাণ দর্শক ভিড় করেন। নয়া দিগন্ত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দীর্ঘ ১৫ বছর পর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে শীতলক্ষ্যা নদীর দুই পাড়ে হাজারো দর্শক ভিড় করেন। ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিযোগিতা উপলক্ষ্যে উপজেলার কাঞ্চন, হাবিবনগর, দিঘলিয়া, কেরাবো, কলাতলী, বান্টি, হাটাবো ও আতলাশপুরের নদী ও নদী তীরবর্তী এলাকায় দিনভর ছিল উৎসবের আমেজ।  

Advertisement

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার কাঞ্চন এলাকায় কাঞ্চন পৌর বিএনপির উদ্যোগে উপজেলার শিমুলিয়া ঘাট থেকে হাটাবো বাজার ঘাট পর্যন্ত শীতলক্ষ্যা নদী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

এ আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়। বিপুল পরিমাণ দর্শক নদীর দুই পাড়ে অবস্থান নেন, অনেকে আবার নৌভ্রমণের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন।

ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মুস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন, সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী আর্কিটেক্ট ইয়াছমিন ইসমাইল, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, সাধারণ সম্পাদক বাছির উদ্দিন বাচ্চু, কাঞ্চন পৌর বিএনপির সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মফিকুল ইসলাম খান, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম, আশরাফুল হক রিপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় ছোট-বড় ২৫টি নৌকা অংশ নেয়। প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু এমপি বিজয়ীদের মাঝে তিনটি মোটরসাইকেল, ১৬টি ফ্রিজ ও ছয়টি টেলিভিশন পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন ।

ভুলতা এলাকার দর্শক সালাহউদ্দিন দেওয়ান ও গোলাকান্দাইল এলাকার দর্শক শাহিন মিয়া জানান, ‘দীর্ঘ ১৫ বছর পর দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো দর্শনার্থী নৌকা বাইচ দেখতে এসেছেন। এমন আয়োজন দেখে তারা অবিভুত হন। ভবিষ্যতেও যেন এ ধরনের প্রতিযোগিতা নিয়মিত আয়োজন করা হয়, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

দর্শকরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে মুক্ত রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন তরুণদেরকে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।

আয়োজকরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে দূরে রাখতে এবং সুস্থ ধারার বিনোদন ফিরিয়ে আনতে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে। আগামীতেও এ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।