
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে দিনদুপুরে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজনকে সিসিটিভি ফুটেজে সরাসরি ডাকাতিতে অংশ নিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো: হাবিবুর রহমান। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রোববার এ উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার মো: হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমি এই জেলায় যোগদানের পর থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছি। গত ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জুমার নামাজের সময় একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতির সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।’
পুলিশ জানায়, শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১২টা ৪০ মিনিটে বন্দর থানার সোনাচড়া ঢাকেশ্বরী বাজারের একটি স্বর্ণের দোকানে ৭ থেকে ৮ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে। দোকানে থাকা এক নারী ও দোকানদারকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার, রূপার গহনা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ প্রায় ২৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকার মালামাল লুট করা হয় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মো: হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় বন্দর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল তদন্ত ও অভিযান শুরু করে। শনিবার দিবাগত রাত ২টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বন্দর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন আনোয়ার হোসেন ওরফে আলী হোসেন (৩২), মিজান (২৬), অনিক (২২), সুমন বেপারী (৩৮) ও রাজু আহমেদ (২৪)।
পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন সরাসরি দোকানের ভেতরে ডাকাতিতে অংশ নেয়ার এবং দুজন বাইরে অবস্থান করার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ১৩ হাজার ৭০০ টাকা, ১২ ভরি রূপা, স্বর্ণ ও রূপার প্রলেপ দেয়া দুটি রুলি এবং একটি স্বর্ণের নাকফুল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ ইঞ্চি ও ১২ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের দুটি ছুরি, একটি চাইনিজ কুড়াল এবং সিসিটিভি ফুটেজে ডাকাতদের পরনে দেখা যাওয়া শার্ট, গেঞ্জি ও প্যান্ট উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে নিয়ে আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডাকাতির ঘটনা উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি।








