পরিদর্শন
মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক মিশন সিটি পরিদর্শন করেন মিশরে নিযুক্ত বাংলাদেশের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গৌতম কুমার দে। নয়া দিগন্ত

মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবাসিক এলাকা ইসলামিক মিশন সিটি পরিদর্শন করেছেন মিশরে নিযুক্ত বাংলাদেশের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গৌতম কুমার দে। রোববার সকালে ইসলামিক মিশন সিটির মহাপরিচালক ড. ঈসাম কাজির আমন্ত্রণে তিনি এ পরিদর্শনে যান।

এ সময় ইসলামিক মিশন সিটির মহাপরিচালক ড. ঈসাম কাজি, সহকারী মহাপরিচালক উস্তাদ মোস্তফা ও প্রেস সচিব ওমর ফাতেহি তাকে অভ্যর্থনা জানান। বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনের সাবেক সহসভাপতি ও কিশোরগঞ্জের জুলাইযোদ্ধা মাসুদ হাসান, নয়া দিগন্তের মিশর প্রতিনিধি এলামী মো. কাউসারসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও গবেষক।

সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি, ইসলামিক মিশন সিটিতে আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণ এবং ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। ড. ঈসাম কাজি বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন এবং এ ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে মিশরে ভালো ফলাফল অর্জনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছেন। তাদের পরিশ্রম, ভদ্রতা ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহেরও প্রশংসা করেন তিনি।

চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স গৌতম কুমার দে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলা যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান। শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশ দূতাবাস পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

পরিদর্শনকালে গৌতম কুমার দে ইসলামিক মিশন সিটির পাবলিক লাইব্রেরি, টেনিস ও বিলিয়ার্ড হল, জিম ও ফিটনেস সেন্টারসহ বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে জাতীয় ফল কাঁঠালের একটি গাছও রোপণ করেন তিনি।

এ সময় বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী যান রিকশার একটি স্মারক উপহার দেওয়া হয়। পরে ড. ঈসাম কাজি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ও এর পাঠ্যক্রম সম্পর্কিত কয়েকটি বই চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের হাতে তুলে দেন।

পরিদর্শন শেষে গৌতম কুমার দে ইসলামিক মিশন সিটির পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার প্রশংসা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি আবাসিক এলাকার বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং শারীরিক সুস্থতার প্রতি গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান।