গ্রেফতার হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহাবুল
গ্রেফতার হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহাবুল। নয়া দিগন্ত

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে হাসিনা হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে ঘটনার সাথে জড়িত পরকীয়া প্রেমিক মাহাবুলকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জেলা পুলিশ। এর আগে, শনিবার ভোরে দেবীগঞ্জ উপজেলার ভাউলাগঞ্জ বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

গ্রেফতার মাহাবুল হক দেবীগঞ্জ উপজেলার বালাপাড়া বাজার, মধ্যপাড়া গ্রামের সামিয়ারের ছেলে।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মাহাবুল হক প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন যে, তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। ভিকটিম তার প্রতিবেশী ভাবি। হাসিনা বয়সে তার চেয়ে বড়। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে থেকে হাসিনার সাথে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে তাদের মধ্যে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়।

ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে হাসিনা মাহাবুলের মোবাইলফোনে কল করেন। মাহাবুল তার কলটি কেটে দিয়ে পরে তাকে কলব্যাক করে কথা বলেন। হাসিনা তার স্বামীকে ভাত খেতে দিয়ে পাশের বাড়িতে খাৎনা অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে পাশের ধানক্ষেতের আইলের কাছে মাহাবুলের জন্য অপেক্ষা করবে বলে আসতে বলেন। ঘটনাস্থল ধানক্ষেতের আইলে গিয়ে মাহাবুল হাসিনাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। পরে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়।

সেখানে হাসিনার শরীর ভালো লাগছে না এবং তার মাথায় পানি দিতে বলে। মাহাবুল হাসিনার মাথায় দুই হাত দিয়ে সোজা করে শোয়ানোর সময় ঘাড় ভেঙে যায়। হাসিনার মুখ-নাক দিয়ে লালা বের হলে মাহাবুল হাত দিয়ে মুছে দেয়। মাথায় পানি দেয়, বুক, হাত-পা ডলাডলি করে। পরে দেখেন হাসিনা মারা গেছে।

পরে হাসিনার মোবাইল বের করে মাহাবুলের করা ডায়াল নম্বর ডিলিট করে দিয়ে তার পরিহিত পোশাকের (ম্যাক্সির) পকেটে রেখে দেয়।

এর আগে, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের বালাপাড়া ধানক্ষেতের আইল থেকে নুরবানু ওরফে হাসিনার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত হাসিনা বালাপাড়া বাজার, মধ্যপাড়ার নুর রশিদের স্ত্রী। ওইদিন (শুক্রবার) নিহত হাসিনার ছেলে মো: হাচিনুর রহমান মিঠু দেবীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পঞ্চগড় গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা আবু হোসেন বলেন, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আমরা এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে মূল আসামিকে গ্রেফতার করেছি। আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের মধ্যে পরকিয়ার সম্পর্ক ছিল। ওই নারীর মৃত্যু কিভাবে হয়েছে তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর আরো নিশ্চিত হওয়া যাবে।