
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও মোবাইল ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর এবার অজ্ঞাত নম্বর থেকে একের পর এক ফোন করে গালাগাল, হুমকি ও অশোভন আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অপ্রতিমের বাবা-মা।
এ ঘটনায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ।
এদিকে, নিরাপত্তা শঙ্কায় শুক্রবার থেকে নিজের মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম।
অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘প্রথমে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে অপ্রতিম ও আমাদের জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে। একইসাথে আমাদের দুজনের মোবাইল নম্বরে অজ্ঞাত কয়েকটি নম্বর থেকে ফোন করে কে বা কারা গালাগাল, হুমকি ও অশোভন আচরণ করছে। এতে আমরা দুজনই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ঘটনায় শুক্রবার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।’
অপ্রতিমের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারকে ফোন করা হয়। কল রিসিভ করার পর তিনি ফোনদাতার পরিচয় জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি পরিচয় দেয়ার পর তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন। পরে কল কেটে দেয়ার পর একই ব্যক্তি অন্য কয়েকটি নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন করেন। পরে নম্বরগুলো ব্লক করে দেয়া হয়।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বলেন, ‘সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণের অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।’
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে বন্ধুদের সাথে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় সে। পরদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।








