
কয়রা (খুলনা) সংবাদদাতা
খুলনার কয়রায় সরকারি ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কার্যক্রমে জনবল নিয়োগ ঘিরে স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাতভর বিতর্কিত ভাইভা গ্রহণ এবং গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে ফল প্রকাশের পর চাকরিপ্রার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, সাতটি ইউনিয়নের সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে বাদ পড়েছেন বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকসের (বিবিএস) পূর্ব অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রার্থীরা। অন্যদিকে, প্রাথমিকভাবে বয়সসীমার কারণে বাদ পড়া ও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিদের চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। মহারাজপুর ইউনিয়নের প্রার্থী তানিয়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন, তিনটি জরিপে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও গভীর রাতে নেয়া মৌখিক পরীক্ষায় আমাকে বাদ দিয়ে দলীয় বিবেচনায় অনভিজ্ঞদের সুযোগ দেয়া হয়েছে।
তালিকায় মহেশ্বরীপুর ও মহারাজপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একাধিক পদে থাকা নেতাকর্মীর নাম আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। আবার কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই আমাদী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল সানা, ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান ও সাইবার দলের সম্পাদক হারুন অর রশীদকে সুপারভাইজার পদে নির্বাচিত করা হয়েছে। এ ছাড়া নিয়োগ কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের ভগ্নিপতি আবদুর রহিমকে তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগ দেয়ায় স্পষ্ট স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন পরীক্ষার্থীরা। কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাহমুদ হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্তদের ছবি প্রকাশ করে দাবি করেন, যুবদলের এক প্রভাবশালী নেতার সুপারিশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সুবিধা দেয়া হয়েছে। কয়রা-পাইকগাছা উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি এস এ মুকুল বলেন, রাষ্ট্রীয় কাজে স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই। প্রশ্নবিদ্ধ এই নিয়োগ বাতিল করে অবিলম্বে মেধার মূল্যায়ন করা দরকার।
স্বজনপ্রীতির কথা স্বীকার করলেও সদস্যসচিব আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, তার ভগ্নিপতি মেধার ভিত্তিতেই টিকেছেন। ভাইভার মূল্যায়নে ইউএনওর একচ্ছত্র সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও মো: আবদুল্লাহ আল বাকী বলেন, নিয়োগ কমিটি বিধি মেনেই ফল প্রকাশ করেছে। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।








