
ডুমুরিয়া (খুলনা) সংবাদদাতা
শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার থুকড়া গ্রাম। প্রায় সাড়ে চার হাজার ভোটারের ঐতিহ্যবাহী এই গ্রামটি এখন সর্বনাশা মাদকের থাবায় আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। বিড়ি-সিগারেট ও গাজার গণ্ডি পেরিয়ে এখানে থাবা বসিয়েছে ফেনসিডিল, ইয়াবা, হেরোইন ও বিষাক্ত অ্যালকোহল। সম্প্রতি বিষাক্ত মদপানে দুই যুবকের মৃত্যুর পর গ্রামজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৮ জুলাই রাতে বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করে থুকড়া গ্রামের রাসেল সরদার (২৮) ও রবিউল ইসলাম (৩২) নামের দুই যুবক মারা যান। একই সাথে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন আরো তিনজন। চিকিৎসাধীন এনামুল হক অভিযোগ করেন, বাজারসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী আবদুল হালিম সরদারের কাছ থেকে কেনা মদ পান করেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এখানে অ্যালকোহল ও মাদকের কারবার চালিয়ে আসছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, সন্ধ্যার পর থুকড়া চাতাল, মাদরাসা মোড়, পানির ট্যাংকি ও শান্তিনগরসহ কয়েকটি স্থানে মাদকের কেনাবেচা চলে। শুধু বয়স্করাই নন, কিশোর বয়স থেকেই অনেকে এ মারাত্মক নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে হালিম সরদারসহ কয়েকজন চিহ্নিত ব্যক্তি মাদক কারবারে জড়িত থাকলেও গ্রেফতারের পর দ্রুত জামিনে বেরিয়ে এসে আবার পুরনো ব্যবসায় ফিরে যান।
স্থানীয় সমাজসেবক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ গাজী নাজিম উদ্দীন বলেন, অভিভাবক ও সমাজের সচেতনতা এবং প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ছাড়া তরুণদের এই পথ থেকে ফেরানো সম্ভব নয়। এ বিষয়ে রঘুনাথপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম জানান, মৃত্যুর ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি। ডুমুরিয়া থানার ওসি মাসুদ রানা জানান, মাদক দমনে পুলিশ সব সময় তৎপর রয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত আছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, কার্যকর তদারকির অভাবেই ঐতিহাসিক এই গ্রামটির ভবিষ্যৎ আজ অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে।








