
জয়পুরহাট শহরের জানিয়ার বাগান এলাকায় গৃহবধূ সাজেদা ইসলাম সাজু (৩৭) হত্যা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জয়পুরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক হাসিবুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।
কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন জয়পুরহাট সদর উপজেলার খনজনপুর এলাকার আনিছুর রহমানের ছেলে আবু সাঈদ (২৭) ও একই এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে রাব্বী হোসেন (২৭)।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাট শহরের জানিয়ার বাগান এলাকায় ডা: পারভীনের পাঁচতলা ভবনের একটি ভাড়া বাসায় গৃহবধূ সাজেদা ইসলাম সাজুকে হত্যা করা হয়। পরে ওই বাসা থেকে তার হাত বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সাজেদা ইসলাম সাজু ওই বাসায় নিজের শিশু সন্তান আরিফাকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার স্বামী হাফিজুল ইসলাম জেলার বাইরে চাকরি করতেন। সাজেদার মেয়ে যে স্কুলে পড়াশোনা করত, সেখানে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন আবু সাঈদ। স্কুলে যাওয়া-আসার সূত্রে সাজেদার সাথে সাঈদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে মামলার তদন্তে উঠে আসে।
পুলিশের দাবি, ওই সম্পর্কের জের ধরে আবু সাঈদ ও রাব্বী হোসেন সাজেদাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী মুখে কসটেপ লাগিয়ে এবং গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার দুই দিন পর ২৯ সেপ্টেম্বর নিহতের স্বামী হাফিজুল ইসলাম বাদি হয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ আবু সাঈদ ও রাব্বী হোসেনকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর তারা আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
এর আগে, জয়পুরহাট পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) তরিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জিয়াউর রহমান ২০২৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে সোমবার আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সহকারী সরকারি কুশলী(এপিপি) নূর-ই আলম সিদ্দিক। আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম তালুকদার তরুণ ও মামুনুর রশীদ।







