চুয়াডাঙ্গায় ৭ কোটি টাকার বর্জ্য শোধনাগার ৩ বছরেই পরিত্যক্ত
চুয়াডাঙ্গায় পরিত্যক্ত বর্জ্য শোধনাগার । নয়া দিগন্ত

 মনিরুজ্জামান সুমন দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)
কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল ও পয়োবর্জ্য শোধনাগার। মূল লক্ষ্য ছিল পৌরসভার বর্জ্য পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার উৎপাদন করা। তবে নির্মাণের তিন বছর পার না হতেই সেই মেগা প্রকল্প এখন কার্যত একটি বিশাল ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বুজরুকগড়গড়িতে প্রায় তিন একর (৯ বিঘা) জমির ওপর সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শোধনাগারটির এমন করুণ দশায় স্থানীয় অধিবাসীদের মনে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। কোটি টাকার অবকাঠামো ও আধুনিক যন্ত্রপাতি পড়ে থাকলেও বর্জ্য শোধন কিংবা সার উৎপাদনের মূল কাজটাই শুরু হয়নি। উল্টো সেখানে প্রতিদিন জমছে টন টন অপচনশীল পলিথিন ও পচনশীল বর্জ্য।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ সেক্টর প্রকল্পের আওতায় এটি নির্মিত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ডাম্পিং স্টেশনের পাম্প হাউস, ফিল্টার, পলিশিং ও সেটেলমেন্ট ট্যাংক তৈরি করা হয়েছিল। তবে সরেজমিনে বুজরুকগড়গড়ির ওই স্থাপনায় গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশপথ ও চারপাশ ঘন ঝোপঝাড় এবং আগাছায় ঢেকে গেছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভেতরের মূল যন্ত্রপাতিগুলো এখন পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার উপক্রম।
এ ছাড়া শোধনাগারটির তদারকির জন্য নির্মিত অফিস কক্ষটি দিনের বেশির ভাগ সময় তালাবদ্ধ থাকে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এদিকে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ভ্যান ও ট্রাকে করে প্রতি ১০-১৫ মিনিট পরপর ময়লা এনে ডাম্পিং স্টেশনে ফেলছেন। ফলে প্রতিদিন এখানে জমছে প্রায় ১০ থেকে ১২ টন বর্জ্য। মাসের পর মাস বর্জ্য জমার কারণে এলাকাটি এখন এক বিশাল আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে।
প্রতিশ্রুতি থাকলও বাস্তবে সরকারের কোটি কোটি টাকায় নির্মিত আধুনিক বর্জ্য শোধনাগারটি আজও সচল হয়নি। এক দিকে যেমন অপচয় হচ্ছে সরকারি অর্থ এবং বিনষ্ট হচ্ছে দামি যন্ত্রপাতি, অন্য দিকে দিন দিন বাড়ছে মারাত্মক পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি।
নিয়মিত বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত না করায় আশপাশের এলাকায় প্রতিনিয়ত প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। শুধু জনবসতিই নয়, এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে পাশের কৃষিজমিতেও। বাতাসে ডাম্পিং স্টেশনের পলিথিন উড়ে গিয়ে ফসলের মাঠে পড়ায় উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। বুজরুকগড়গড়ি এলাকার বাসিন্দা আব্দুর কাদির বলেন, স্টেশনটি চালু না হওয়ায় সার্বক্ষণিক দুর্গন্ধ বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয় কৃষক আবু কাশেম জানান, তীব্র দুর্গন্ধের কারণে মাঠে কাজ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে, আর উড়ে আসা আবর্জনা ফসলের ক্ষতি করছে।
স্থাপনাটির কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে ইনচার্জ জয়নাল আবেদিন জানান, শোধনাগারে কবে উৎপাদন শুরু হবে তা তার জানা নেই, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে। তিনি কেবল এলাকা দেখাশোনার দায়িত্বে আছেন।
সার্বিক বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শরীফুল ইসলাম বলেন, শোধনাগারটি চালুর বিষয়ে একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে, চুক্তি হলেই কাজ শুরু হবে। তা ছাড়া এটি দ্রুত চালুর জন্য আরেকটি নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্থান পরিদর্শন করে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করছি খুব দ্রুতই স্টেশনটি সচল করা সম্ভব হবে।

Advertisement