
মো: জাকির হোসেন সৈয়দপুর (নীলফামারী)
নীলফামারীর সৈয়দপুরে নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়ে সড়ক সংস্কারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শিডিউল-বহির্ভূত উপকরণ ব্যবহার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ চালিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এ ঘটনায় সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুর সেনানিবাসের পূর্ব পাশ দিয়ে যাওয়া সৈয়দপুর-পার্বতীপুর সড়কের কদমতলী থেকে বাঙালীপুর ইউনিয়নের পাঠানপাড়া পর্যন্ত এক হাজার ৪৪৫ মিটার সড়ক সংস্কার করা হচ্ছে। বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের জেলাসমূহের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (জিআরআরআইআইপি) আওতায় সৈয়দপুর উপজেলা এলজিইডির তত্ত্বাবধানে এ কাজ চলছে। প্রকল্পটির জন্য বরাদ্দ রয়েছে এক কোটি ৮৮ লাখ টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বাবর ট্রেডার্স অ্যান্ড সন্স’ কার্যাদেশ পেয়ে গত মাসের শুরুতে কাজ শুরু করে। বর্তমানে সড়কে ইটের খোয়া বিছানোর কাজ চলছে।
গতকাল সোমবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের পাশে রাখা ইটের খোয়ার বেশির ভাগই মেটে বা ধূসর-লাল রঙের। স্থানীয়দের দাবি, এসব ইট অত্যন্ত নিম্নমানের এবং সামান্য চাপেই ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। কিছু খোয়া অতিরিক্ত পোড়া (ঝামা) ইটের বলেও তারা জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এসব ইট দিয়ে সড়কের কাজ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানানো হলেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।’
আরেক বাসিন্দা সামসুল হক বলেন, ‘এত নিম্নমানের ইট দিয়ে সড়ক সংস্কারের কাজ আগে দেখিনি। কাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী (এসও) শওকত কবির বলেন, ‘ইটের খোয়া এক নম্বর না দুই নম্বর, সেটা আমি কিভাবে বলব? প্রকৌশলী রাজু স্যার যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, সেভাবেই কাজ চলছে। ইটের খোয়া সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাবর ট্রেডার্স অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী ফয়জুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ইটের মান নিয়ে অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা ভালোভাবেই কাজ করছি।’
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী এম এম আলী রেজা রাজু বলেন, ‘ইটের মান নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর ইউএনওর নির্দেশনায় সড়ক থেকে ইটের খোয়া সংগ্রহ করা হয়েছে। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে মান নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী কাজ করা হবে। আমাদের জানামতে, ইটের মান ভালো। তারপরও অভিযোগ ওঠায় পরীক্ষা করা হচ্ছে।’
এদিকে কয়েকজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, সহকারী প্রকৌশলী শওকত কবিরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকল্পগুলোর কাজের মান যাচাইয়ের দাবি জানান তারা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








