জেলা ও দায়রা জজ আদালত, টাঙ্গাইল
জেলা ও দায়রা জজ আদালত, টাঙ্গাইল নয়া দিগন্ত

টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসাথে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ মো: হাফিজুর রহমান এ দণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডিত আসামি হলেন— টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার বাগুয়াটা গ্রামের মরহুম হাজী আজমত আলীর ছেলে মুস্তাক। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।

টাঙ্গাইল দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো: শফিকুল ইসলাম রিপন নয়া দিগন্তকে জানান, আসামি মুস্তাক দুই শিশুছেলে ও তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মুনিয়াকে নিয়ে ভূঞাপুরের ঘাটান্দি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মুস্তাক তার স্ত্রী মুনিয়াকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে তিনি বিগত ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার পর যেকোনো সময় মুনিয়াকে হত্যা করে পালিয়ে যান।

অনেক খোঁজাখুঁজির পর ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে নিজ ঘরের বক্সখাটের নিচ থেকে মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মুনিয়ার ভাই আমিনুল ইসলাম খান ভূঞাপুর থানায় মামলা করেন।

বিচার শেষে আদালত আসামি মুস্তাককে স্ত্রী হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একইসাথে স্ত্রীর লাশ গুম করার চেষ্টার দায়ে তাকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো দুই মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

নিহত মুনিয়া গোপালপুরের নলিন বাজার গ্রামের নুরুল ইসলাম খানের মেয়ে।

মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো: রফিকুল ইসলাম রফিক।