আগুন
আগুন লাগা কারখান নয়া দিগন্ত

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রীতি গ্রুপের ‘এস স্যুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’ এর ভেতর রাখা এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি লরিতে আগুন ও বিস্ফোরণে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এর মূল কারণ বেরিয়ে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সিলিন্ডার থেকেই আগুন ও বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। 

‎ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, কারখানা প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকা লরিগুলোর সারি থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। দেয়ালের পাশে সারিবদ্ধভাবে থাকা লরিগুলোর মধ্যে ৪ নম্বর লরিটিতেই প্রথম বিস্ফোরণ হয় এবং আগুন ধরে যায়।

‎জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন জানান, কারখানাটিতে তিতাস লাইনের গ্যাস থাকলেও লাইনে পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার লরি থেকে গ্যাস ব্যবহার করা হতো। তবে এসব লরিতে ব্যবহৃত সিলিন্ডারগুলো ছিল মেয়াদউত্তীর্ণ ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সিলিন্ডারের ভেতরে থাকা অতিরিক্ত চাপ বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই ৪ নম্বর লরিটিতে হঠাৎ এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

‎তিনি জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে কাভার্ডভ্যানের ওপরের অংশ ও সিলিন্ডারের খণ্ডাংশ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি একটি অংশ ছিটকে গিয়ে পাশের ১০ তলা ভবনের ছাদে গিয়ে পড়ে ও সিলিন্ডারের মূল সরবরাহ লাইনেও আগুন ছড়িয়ে যায়।

‎রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঘটা এই দুর্ঘটনায় খবর পেয়ে জিরাবো ও ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৮টা ৩০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়।

‎ঘটনাস্থলে লরির ভেতর থেকেই পাঁচজনের দগ্ধ লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। বিস্ফোরণের পর ছিটকে আসা সিলিন্ডারের আঘাতে মোছা: জয়নব বেগম (৫৫) নামের এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুলবুল নামের আরো একজন মারা গেলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতজনে।

‎এ দুর্ঘটনায় প্রীতি গ্রুপের কারখানা প্রাঙ্গণে থাকা প্রায় আট-নয়টি লরি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আনসার সদস্য, শ্রমিক ও পথচারীসহ অন্তত ২৫ জনেরও বেশি মানুষ।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ চলছে।