
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে স্টেশন ঘেরাও করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আহত শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টেশনে ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সাথে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আইয়ুব আলী পরিস্থিতি থামাতে এগিয়ে গেলে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
আইয়ুবের সহপাঠী নাইমুল ইসলাম অভ্র বলেন, ‘মারধরের পর আইয়ুব মাটিতে পড়ে যান। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। কয়েকবার বমি করেছেন এবং তার নাক দিয়ে রক্তপাত হয়েছে।’
এদিকে, আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো: ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। রেলের কর্মচারীরা তাকে অত্যন্ত নির্মমভাবে মারধর করেছেন। আমি নিউরোসার্জনের সাথে কথা বলেছি। তাকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আমরা বিষয়টি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘তার চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার পাশাপাশি রেলের নিরাপত্তারক্ষী, টিটিসি ও গার্ডসহ সংশ্লিষ্টদের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ঘটনার সাথে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে অনুরোধ জানিয়েছি।’
ঘটনার প্রতিবাদে রাবি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশনে রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে তারা রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে গিয়ে সেখানে অবস্থান নেন। এতে রাজশাহীর সাথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয় এবং ধূমকেতু এক্সপ্রেস আটকা পড়ে।
এদিকে, বাংলাদেশ রেলওয়ে, রাজশাহীর চিফ কমান্ড্যান্টের স্বাক্ষরিত দফতরাদেশে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চার আরএনবি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্তের কথা জানানো হয়েছে। তারা হলেন—মো: আরিফ হোসেন, মো: রোকন উদ্দীন, মো: শফিকুল ইসলাম ও মো: শাহাদত হোসেন।







