
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রাবন্দরসংলগ্ন আন্ধারমানিক নদীর ওপর নির্মাণাধীন চার লেনের দৃষ্টিনন্দন আইকনিক সেতুর ৯৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে সেতুটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। সেতুটি চালু হলে পায়রা বন্দরের ফার্স্ট টার্মিনালের সাথে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে পণ্য পরিবহনে সময় ও দূরত্ব কমার পাশাপাশি আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পায়রা বন্দরসূত্রে জানা যায়, এক হাজার ১৮০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের মার্চে। প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতুর মাধ্যমে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের সাথে পায়রা বন্দরের সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেতুটি নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক ‘এক্সট্রা ডোজড’ প্রযুক্তি। নদীর নাব্য ও নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মূল প্রবাহে মাত্র দু’টি পিয়ার স্থাপন করা হয়েছে, যা নৌ চলাচলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না। চীনের দু’টি প্রতিষ্ঠান-চায়না রেলওয়ে ব্রিজ কনস্ট্রাকশন গ্রুপ (সিআরবিজি) ও চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) যৌথভাবে সেতুটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে।
স্থানীয়রা জানান, আইকনিক সেতুটি চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক দিয়ে সরাসরি বন্দরে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হওয়ায় বাণিজ্যিক গুরুত্ব বহুগুণ বাড়বে। তবে কলাপাড়ার বাসিন্দা রুহুল ঢালী অভি বলেন, সেতু চালুর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটলেও একই নদীতে পরপর তিনটি সেতু নির্মিত হওয়ায় নদীটি নাব্য হারানোর ঝুঁঁকিতে পড়তে পারে।
পায়রা বন্দরের সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) তাজহার কবির বলেন, সেতুটির মূল অবকাঠামোর প্রায় ৯৪ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অক্টোবরের মধ্যেই প্রাথমিক কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি, অক্টোবরের শেষ নাগাদ সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হবে।







