জাকসুর এক বছরের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন
জাকসুর এক বছরের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন নয়া দিগন্ত

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া প্রায় ১৮ লাখ টাকার বাজেটের বিপরীতে তিন কোটি ৫২ লাখ টাকার উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীকল্যাণমূলক কাজ করার দাবি করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নেতারা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাকসুর এক বছরের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান জাকসুর সদ্য সাবেক এজিএস ফেরদৌস আল হাসান।

ফেরদৌস আল হাসান বলেন, ‘৩৩ বছর পর জাকসু নির্বাচন হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের মাত্র ১৮ লাখ টাকার বাজেট দিয়েছে। এই অল্প বাজেটে কার্যক্রম পরিচালনা সহজ ছিল না। শুরু থেকেই বিভিন্ন স্পন্সর ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আমরা প্রায় তিন কোটি ৫২ লাখ টাকার কাজ করতে সক্ষম হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলেও বাজেট সঙ্কটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সমাধান সম্ভব হয়নি। পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা এবং স্পন্সরশিপের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।’

জাকসুর তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের পর এক বছরে মোট ৩৩৮টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে উন্নয়নমূলক কাজ, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও আবাসিক হলভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম রয়েছে।

বাস্তবায়িত প্রকল্পের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টার আধুনিকায়নে প্রায় ২৫ লাখ টাকা, ২১টি আবাসিক হলে কম্পিউটার, ডেস্কটপ সেটআপ ও টেবিল সরবরাহে প্রায় ১১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, গরম-ঠান্ডা পানির ফিল্টার স্থাপনে সাত লাখ টাকা এবং ১৬টি হল ও কেন্দ্রীয় মন্দিরে ধর্মীয় পাঠাগার স্থাপনে প্রায় আট লাখ ৮৯ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিনামূল্যে আইইএলটিএস, কম্পিউটার, ইংরেজি, জাপানি ও সফট স্কিল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গবেষণা পদ্ধতিবিষয়ক কোর্স আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। এছাড়া জব ফেয়ার, ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন এক্সপো, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও নারী শিক্ষার্থীদের সাইকেল-স্কুটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

জাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এসব কার্যক্রমের বড় একটি অংশ স্পন্সরনির্ভর। প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আয়োজিত জব ফেয়ারের আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ১৬ লাখ টাকা। তবে স্পন্সরশিপের কারণে জাকসুর ব্যয় নেমে আসে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকায়। একইভাবে ক্যারিয়ার এক্সপো, আইইএলটিএস কোর্স, মানসিক স্বাস্থ্য ক্যাম্পসহ কয়েকটি কর্মসূচিতেও জাকসুর সরাসরি ব্যয় ছিল না বা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

এছাড়া ১৫টির বেশি সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ও তিনটি বড় কনসার্ট আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনে মোট ১৮ লাখ টাকার স্পন্সর সংগ্রহ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। বিভিন্ন হল সংসদ ও ক্লাবের কর্মসূচির জন্য জাকসুর বাজেট থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা নগদ সহায়তাও দেয়া হয়েছে।

জাকসুর এজিএসের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া ১৮ লাখ টাকার তুলনায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্পন্সর ও আউটসোর্সিংয়ের সহযোগিতায় প্রায় ২০ গুণ বেশি আর্থিক মূল্যের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে ১০ম জাকসু।

তবে জাকসুর এক বছরের আর্থিক কার্যক্রমের অডিট প্রতিবেদন আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন এজিএস ফেরদৌস আল হাসান।