রানীশংকৈলে কুলিক নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ
কুলিক নদীর পাড় থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে নয়া দিগন্ত

রানীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা
ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে কুলিক নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলনের মহোৎসব চালানোর অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। দলীয় প্রভাবের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। ক্ষমতার ভয়ে কেউ সরাসরি মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। 
অন্য দিকে প্রশাসন ও স্থানীয় কিছু ব্যক্তির নীরবতায় এই অবৈধ কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের বিরাশি বাজার কবরস্থানসংলগ্ন কুলিক নদী এলাকায়। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মঞ্জুর আলী। তিনি লেহেম্বা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত এক্সক্যাভেটর (ভেকু) দিয়ে কুলিক নদীর তীরবর্তী পাড় ও ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। পরে সেই মাটি ও বালু ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে বিভিন্ন ইটভাটা ও ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। নদীর পাড় ও উঁচু টিলা থেকে প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত গভীরে মাটি কেটে নেয়ায় নদীভাঙনের চরম ঝুঁকিতে পড়েছে আশপাশের শত শত একর আবাদি জমি। এ ছাড়া মাটি বহনকারী ভারী যানবাহনের চলাচলে বিরাশি বাজার থেকে বাগানবাড়ী হয়ে কবরস্থান যাওয়ার সড়কটি খানাখন্দে পরিণত হয়েছে।
গত শনিবার সরেজমিনে বিরাশি বাজার এলাকায় দেখা যায়, নদীর একেবারে কোল ঘেঁষে অর্ধকাটা অবস্থায় একটি এক্সক্যাভেটর পড়ে রয়েছে। আশপাশের বড় এলাকাজুড়ে গভীর গর্ত ও খানাখন্দ।
নদীর পাড়ে কাজ করা স্থানীয় এক কৃষক বলেন, দিনে বন্ধ থাকলেও রাতে দেদারসে মাটি কাটা চলে। যে হারে মাটি কাটা হচ্ছে, তাতে আগামী বর্ষায় আশপাশের সব ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। কিছু দিন আগে প্রশাসনের লোক ও কিছু সাংবাদিক এসে ছবি-ভিডিও করে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। একজন রাজনৈতিক নেতার সুবিধার জন্য আজ শত শত মানুষের ক্ষতি হচ্ছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা মঞ্জুর আলী দাবি করেন, নদীর পাশে আমার আট বিঘা আবাদি জমি রয়েছে। এর মধ্যে আট কাঠা জমি কিছুটা উঁচু হওয়ায় জমি সমান করার জন্য ভেকু দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। কোনো মাটি বিক্রি করা হচ্ছে না। রাতে মাটি ও বালু বিক্রির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, মাটি কাটার চুক্তিতে থাকা লোকজন হয়তো দু-এক ট্রলি নিতে পারে।
মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত ভেকুর মালিক দেলোয়ার জানান, স্থানীয় হাসান ও সাদেকুল নামের দুজন চুক্তি করে তাকে দিয়ে রাতে মাটি কাটাচ্ছেন। তবে হাসান ও সাদেকুল দাবি করেন, তারা এতে জড়িত নন; জমির মালিক নিজের প্রয়োজনে মাটি কাটছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রানীশংকৈল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মজিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।