হাম
হামের নমুনা ছবি সংগৃহীত

সিলেটে দুই শিশুর মৃত্যুর একদিন পর একটি মৃত্যুহীন দিন কেটেছে। তবে মৃত্যু না থাকলেও হাসপাতালে রোগী ভর্তির চাপ কমেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরো ১৩৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এতে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪১ জনে। রোগীর চাপে অনেক হাসপাতালে পর্যাপ্ত বেড মিলছে না; কোথাও কোথাও এক বেডে তিন-চার শিশুকে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। একই সময়ে হাম ও উপসর্গ নিয়ে ১৩৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩৭ জন, এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৪৫ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুইজন, পার্কভিউ মেডিক্যাল হাসপাতালে নয়জন, সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৬ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৩ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৪ জন এবং ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৪১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি। ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এসব হাসপাতালে বেড সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এক বেডে একাধিক শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও এর আগের দিন সিলেটে হামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। ওই দুই শিশুর একজন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের পাঁচ মাস বয়সী রূপায়ন সরকার এবং অন্যজন সুনামগঞ্জের শাল্লার চার মাস ২২ দিনের অপর্ণা। তারা দুজনই ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, ১ জানুয়ারি থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৫৩ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৮৫, হবিগঞ্জে ১৫৩, মৌলভীবাজারে ১৫৮ ও সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন।

চলতি বছর হাম ও উপসর্গে এ পর্যন্ত ১৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগে ১৬০ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে ১০ জন মারা গেছেন। জেলা হিসেবে সিলেটে ৬৭, হবিগঞ্জে ২৪, মৌলভীবাজারে ১৫ এবং সুনামগঞ্জে ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।