
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় দাঁড়াশ ভেবে কালাচ সাপকে ধরতে গিয়ে দংশনের শিকার হয়ে আলমগীর ওঝা (৪৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের শয়তানখালি সলেনামা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আলমগীর ওঝা হিসেবে গ্রামে বেশ পরিচিত ছিলেন। তার বাবা সাত্তারও এলাকায় ওঝা হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলমগীর একটি সাপকে দাঁড়াশ ভেবে ধরার চেষ্টা করেন। এ সময় সাপটি তাকে দংশন করে। দংশনের পর দ্রুত হাসপাতালে না গিয়ে তিনি বাড়িতে গিয়ে বাবা সত্তার ওঝার কাছে যান। পরে তার বাবা ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে বিষ নামানোর চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে আলমগীরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে পার্শ্ববর্তী চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার আরো অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাপটি শনাক্ত করতে ভুল করেছিলেন আলমগীর। তিনি সাপটিকে নির্বিষ দাঁড়াশ মনে করলেও সেটি ছিল বিষধর কালাচ।
সাপ ধরায় পারদর্শী আরিফ ওঝা বলেন, সাপের দংশনের পর ঝাড়ফুঁক করে বিষ নামানো সম্ভব নয়। সাপে দংশন করলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেয়া উচিত।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাপে দংশনের পর ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করে সময়ক্ষেপণ করা বিপজ্জনক। বিষধর সাপের দংশনের ক্ষেত্রে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা নেয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে আক্রান্ত ব্যক্তির জীবনহানির ঝুঁকি থাকে।
গ্রামাঞ্চলে এখনো অনেক মানুষ বিষধর ও নির্বিষ সাপের পার্থক্য সম্পর্কে পর্যাপ্তভাবে জানেন না। ফলে সাপে দংশনের পর অনেকেই প্রথমে ওঝার কাছে গিয়ে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে ‘বিষ নামানোর’ চেষ্টা করেন। নির্বিষ সাপের দংশনের ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি অনেক সময় চিকিৎসা ছাড়াই সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। তবে বিষধর সাপের দংশনের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় কালাচ সাপের উপস্থিতি বেড়েছে। অনেকেই কালাচকে দাঁড়াশ ভেবে ভুল করছেন। তাই সাপ দেখলে সেটি ধরতে বা কাছে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সচেতন ব্যক্তিরা। সাপে দংশন করলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পাশাপাশি সাপ ধরতে বা মারতে গিয়ে নিজেরা ঝুঁকিতে না পড়ারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।







