
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার মিরসরাই সদর ইউনিয়নের পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদ গ্রামে এ চুরির ঘটনা ঘটে। এতে বিদ্যুৎ না থাকা অবস্থায় ওই এলাকার প্রায় ৭০টি পরিবার বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক মাস ধরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর আওতাধীন উপজেলার জোরারগঞ্জ, ধুম, ওসমানপুর ও মিরসরাই সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে রাতের আঁধারে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় এসব এলাকার মানুষ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিরও মুখে পড়ছেন।
পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মো: ওয়াজি উল্যাহ বলেন, ‘বুধবার ফজরের নামাজের সময় ঘুম থেকে ওঠার পর বিদ্যুৎ চলে যায়। বর্তমানে বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে প্রথমে এটিকে স্বাভাবিক লোডশেডিং মনে হয়েছিল। পরে সকালে জানতে পারি, গ্রামের ট্রান্সফরমারটি চুরি হয়ে গেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এমনিতেই প্রচণ্ড গরমে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ। এর মধ্যে ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে যাওয়ায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়ে গেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল পাশা ও মাস্টার আজম বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির পর থেকে এলাকার মসজিদের মুসল্লিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকের ঘরে থাকা ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চুরির বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানালে নতুন ট্রান্সফরমারের জন্য প্রায় ৮৭ হাজার টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে। টাকা জমা দেয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে গ্রামের অধিকাংশ মানুষই নিম্ন আয়ের হওয়ায় হঠাৎ করে এত টাকা জোগাড় করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, একটি পাঁচ কেভিএ ট্রান্সফরমারের মূল্য প্রায় ৫৩ হাজার টাকা, ১০ কেভিএর প্রায় ৮৩ হাজার টাকা, ১৫ কেভিএর ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা ও ২৫ কেভিএর একটি ট্রান্সফরমারের মূল্য প্রায় এক লাখ ৫৯ হাজার টাকা।
সূত্রটি আরো জানায়, কোনো এলাকায় প্রথমবার ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমার পেতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের এর মূল্যের অর্ধেক পরিশোধ করতে হয়। তবে একই এলাকায় দ্বিতীয়বার ট্রান্সফরমার চুরি হলে পুরো মূল্যই গ্রাহকদের বহন করতে হয়। ফলে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় শুধু বিদ্যুৎ বিভ্রাটই নয়; ভুক্তভোগীদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপও তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩-এর এজিএম আজহার উদ্দিন বলেন, ‘পশ্চিম কিছমত জাফরাবাদে ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়ে আমি এখনো কিছু শুনিনি। এ ব্যাপারে কেউ যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া হবে।’
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ‘ট্রান্সফরমার চুরির বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’







