
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবতাবাদী দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতে রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুলবর্ষ উপলক্ষে সৃজনশীল নৃত্য প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মিলনায়তনে নৃত্যকলা বিভাগের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ১১টায় নৃত্য প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৪টায় পুরস্কার বিতরণী ও বিশেষ নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান রবিন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন বাংলাদেশ লোকসংস্কৃতি সংসদের সভাপতি, গবেষক ও নৃত্যপরিচালক মিনা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বাচিকশিল্পী টিটো মুন্সি এবং নাট্যকার মাসুম রেজা।
নৃত্য প্রতিযোগিতায় বিচারকমণ্ডলীর দায়িত্বে ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশিষ্ট নৃত্যব্যক্তিত্ব ড. সোমা মুমতাজ, রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. সাইদুর রহমান লিপন এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো: আরিফুর রহমান।
এছাড়া, অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ট্রেজারার এ কে এম দেলোয়ার হোসেন, এফসিএমএ, রেজিস্ট্রার মো: মনিরুল ইসলাম রিন্টু, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান শিকদার মো: আনোয়ার ইসলাম, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক এ কে এম মশিউর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান রবিন খান বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্ম বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ। তার সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে বিশ্ববিদ্যালয় এ ধরনের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’
অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগ। আয়োজন সম্পর্কে বিভাগের রিসোর্স পারসন সাজু আহমেদ বলেন, নজরুলের সৃষ্টিকর্মের নান্দনিকতা, মানবতাবাদী চেতনা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে নৃত্যের মাধ্যমে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি জাতীয় কবির শিল্পভাবনার সাথে নতুন প্রজন্মের পরিচয়কে আরো নিবিড় করার সুযোগ সৃষ্টি করবে।
এর আগে, জাতীয় কবির সাহিত্য, সঙ্গীত, জীবনদর্শন ও বহুমাত্রিক সৃজনকর্মকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের আরো নিবিড় পাঠ ও চর্চার সুযোগ করে দেয়ার লক্ষ্যে আগস্ট মাসে তার ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান-কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ‘নজরুল কর্নার’ স্থাপন করা হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








