রাবির হল ও জিমনেসিয়ামে রাকসুর ব্যায়াম সরঞ্জাম সরবরাহ 
মঙ্গলবার সকালে এসব সরঞ্জাম সরবরাহ করে রাকসু। নয়া দিগন্ত

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ছেলেদের ১১টি আবাসিক হল ও মেয়েদের কেন্দ্রীয় জিমনেসিয়ামে ব্যায়ামের সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু)। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ায় রাকসু নামে কোনো কার্যক্রম বিধিসম্মত নয় বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রশাসন। 

Advertisement

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে এসব সরঞ্জাম সরবরাহ করে রাকসু এবং বিকেলে রাবির ফেসবুক পেজে জনসংযোগ দফতরের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রাকসুর এ কার্যক্রম বিধিসম্মত নয় বলে জানানো হয়।

রাবির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও হল সংসদের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ২৬ অক্টোবর। ফলে এরপর থেকে তাদের কোনো কার্যক্রম বিধিসম্মত নয়।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আজ মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) কর্তৃক বিভিন্ন হল সংসদের মাধ্যমে জিমনেসিয়ামে সরঞ্জামাদি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত হয়েছে। এসব সংবাদ বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী বলে কর্তৃপক্ষ মনে করে।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘এই প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হচ্ছে, রাকসু ও হল সংসদের মেয়াদ ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে উত্তীর্ণ হয়েছে। তাই ওই তারিখের পর তাদের কোনো কার্যক্রম বিধিসম্মত নয়। আবার রাকসুর নাম ব্যবহার করে কোনো ছাত্র সংগঠনের তৎপরতাও বিধিবহির্ভূত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো ছাত্র সংগঠনকে রাকসু ও হল সংসদের নাম ব্যবহার করে কর্মকাণ্ড চালানো থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানাচ্ছে।’

এ বিষয়ে উক্ত বিজ্ঞপ্তির ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার লেখেন, ‘কত বড় ননসেন্স ও গাম্বাটগুলো বসে আছে এই গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে, একটাবার চিন্তা করেন। রাকসুর সর্বশেষ অধিবেশন হয়েছে সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখ। তারপর এই বাজেট উত্তোলন করতে পেরেছি এই মাসের ২১ তারিখ। ১১টি ছেলেদের হল আর মেয়েদের কেন্দ্রীয় জিমনেসিয়ামের জিনিস অর্ডার করে নিয়ে আসতে সময় লেগেছে। এজন্য এখন আর এই কাজ করা যাবে না। অধিবেশনে পাশ হওয়া এখনো মিনিমাম ডজনখানেক কাজ চলমান। তো, এগুলো রাকসু শেষ করবে না?’

রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির লেখেন, ‘জনাব প্রশাসক মহোদয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়ই রাকসুর সভাপতি। তার অনুমোদনক্রমেই রাকসুর ফান্ড থেকে অর্থ উত্তোলন করে এসব কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আর, এই কার্যক্রম নতুন নয়। বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই এর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগছে মাত্র। সামনেও এ ধরনের আরো কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে।’