
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) র্যাগিং ও আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে চার বিভাগের ৪৮ জন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অ্যাকাডেমিক বহিষ্কার, জরিমানা ও শাস্তিমূলক নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শৃঙ্খলা বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও বিভাগীয় অ্যাকাডেমিক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ড. আব্দুল আলিম বসির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশ জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে তিন ক্যাটাগরিতে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। এক বছরের অ্যাকাডেমিক বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা, ছয় মাসের বহিষ্কার অথবা ১৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং সরাসরি জরিমানা।
অপরাধীদের সংশোধন হওয়ার সুযোগ দিতে প্রথমবারের মতো বহিষ্কারের পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে জরিমানার বিধান রাখা হলেও পরে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে প্রশাসন নির্দেশ দিয়েছে।
অভিযুক্ত চারটি বিভাগ হলো : আইন বিভাগ, মার্কেটিং বিভাগ, কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ।
বিভাগভিত্তিক অভিযুক্ত ও শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মার্কেটিং বিভাগের সর্বোচ্চ ১৯ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তারা হলেন— দিদারুল ইসলাম, এস এম সাইফুজ্জামান, ঐশী মহন্ত, কিশোর কুমার দত্ত, মো: সবুজ মিয়া, জান্নাতুল বুশরা জুনি, তাশফিক কবির রাফি, নূরনবী, আলিফ হোসেন নয়ন, আজিজুল ইসলাম চয়ন, সাদিয়া বেগম, স্নেহা আক্তার, মো: খালেদ হোসেন, রিফাত হাওলাদার, সৌরভ মালী, হাসিব শেখ, ফারিয়া শিমুল কলি।
কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শাস্তিপ্রাপ্ত ১৪ জন শিক্ষার্থী হলেন— মো: মুজাহিদ হাওলাদার, চন্দন মিস্ত্রি, সুস্ময় তালুকদার, অয়ন দাস দ্বীপ, সাফায়েত ইসলাম সিহাব, কাওসার হোসেন সৌরভ, সিদ্ধার্থ সরকার, অনিন্দ সাহা অর্থ।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ১০ জন শিক্ষার্থীর তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তারা হলেন— ফারিয়া বিনতে হোসেন ইলমা, মাহিম আনোয়ার, মো: রাকিবুল ইসলাম, ইয়ামিন হোসেন, সুমাইয়া আক্তার রিয়া, মো: নাইম ইসলাম, মো: আরিফুল ইসলাম, সাদিয়া ইসলাম, মো: ওবায়দুজ্জামান রিফাত।
আইন বিভাগ থেকে শাস্তি পাওয়া পাঁচ শিক্ষার্থী হলেন— রুবাইয়া সুলতানা, মো: মনজারুল হক, রেসবুল হাসান আবির, জয়শ্রী রানী বিশ্বাস, মো: রিদোয়ান চৌধুরী।
কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, ‘তিনটি ক্যাটাগরিতে শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে— বহিষ্কার অথবা নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা। শিক্ষার্থীরা যেন ভুল শুধরে নেয়ার সুযোগ পায়, সেজন্য প্রথমবার জরিমানার বিকল্প রাখা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এমন অপরাধের ক্ষেত্রে সরাসরি বহিষ্কারাদেশ কার্যকর হবে।’
এ বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুল কাউয়ুমকে একাধিকবার কল করে পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ‘মোট ৪৮ জন শিক্ষার্থীকে র্যাগিংয়ের বিষয়ে শাস্তি দেয়া হয়েছে। আর র্যাগিংয়ের বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় জিরো টলারেন্স নীতি পালন করছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না হওয়ার জন্য আমরা গবেষণা করে দেখা চেষ্টা করছি। আশা করা যায়, এটা মিটিগেট করতে পারব আমরা।’
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








