শিক্ষক সঙ্কট, শিক্ষা, শিক্ষার্থী, প্রতিমন্ত্রী
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ইন্টারনেট

প্রাথমিক শিক্ষায় চলমান সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রকৃত প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, ‘অবকাঠামো উন্নয়ন বা প্রকল্প বাস্তবায়নের চেয়ে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে কতটা শিখছে, সেটাই শিক্ষার মূল মাপকাঠি হওয়া উচিত।’

আজ শনিবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ আয়োজিত ‘নাগরিক প্ল্যাটফর্ম সংলাপ: সরকার কতখানি এগোলো? প্রাথমিক শিক্ষার ওপর আলোকপাত’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি) আওতায় অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে কেবল ভবন নির্মাণ বা সরঞ্জাম সরবরাহ নয়, শিক্ষার্থীর শেখার ফলাফলকেই (লার্নিং আউটকাম) কেন্দ্র করে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো কার্যকরভাবে সাজাতে হবে।’

শিক্ষক ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার নিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘শিক্ষক সঙ্কট দূর করার পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়া, পেশাগত ক্যারিয়ার, মূল্যায়ন ও প্রশিক্ষণকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার কাজ চলছে। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি, এক শিফট চালু এবং কার্যকর শিখনসময় নিশ্চিত করতে নতুন করে পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।’

কারিকুলাম প্রণয়নে শিশু-মনোবিজ্ঞানী ও প্রাথমিক শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, কিন্ডারগার্টেন কিংবা মাদরাসা- দেশের সব ধরনের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। প্রয়োজনীয় জনবল ও সক্ষমতা তৈরি করে ধাপে ধাপে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকারের কার্যকর মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।

সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো: ইলিয়াস মোল্লা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান এবং চিকিৎসক তাসনিম জারা।