উত্তর কোরিয়ার পতাকা
উত্তর কোরিয়ার পতাকা সংগৃহীত ছবি

পরমাণু কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়ে জাতিসঙ্ঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) যে প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির দাবি, তারা আইএইএর সদস্য নয়, তাই ওই প্রস্তাবের ‘কোনো প্রভাব নেই’।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দেয়া এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, ‘বৈরী শক্তিগুলো’ দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার চেষ্টা করছে। 

চলতি সপ্তাহে আইএইএর সাধারণ সম্মেলন চলাকালে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ।

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর তৈরি করা ওই প্রস্তাব পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অবস্থানে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

তিনি আরো বলেন, উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) ও আইএইএর সদস্য নয়। তাই উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় অবস্থান বা প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ‘অবৈধ ও চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ’।

মুখপাত্রের দাবি, পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অবস্থানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, পশ্চিমা দেশ বা আইএইএর স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই। 

তার ভাষায়, দেশের কার্যকর পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনে এই অবস্থান স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত।

উত্তর কোরিয়া আইনগতভাবেও নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। 

দেশটির নেতৃত্ব বলেছে, তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার স্থায়ী এবং তা থেকে পিছিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই।

বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ক্রমাবনতির মধ্যে দেশটি বিশ্বাসযোগ্য আত্মরক্ষামূলক পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে তোলার কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আরো জোরালোভাবে বাস্তবায়নের অবস্থানে রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত আগস্টে বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫৭টি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। 

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাব অনুযায়ী, এই সংখ্যা ৮০ থেকে ১২০টির মধ্যে হতে পারে।

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সাথে আবারো আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। গত মাসে তিনি জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের শেষের দিকে কিমের সাথে তার বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সূত্র : বাসস