
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষকদের পাঠদান, আচরণ, সময়ানুবর্তিতা ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম মূল্যায়নে ‘শিক্ষক মূল্যায়ন ওয়েবসাইট’ চালু করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)। তবে ওয়েবসাইটটি এখনই শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না। শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত কমিটির কাছে এটি হস্তান্তর করবে জাকসু।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাকসু ভবনে ওয়েবসাইটটির উদ্বোধন করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান উপস্থিত ছিলেন।
জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। সর্বশেষ অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল বিষয়টি গ্রহণ করলেও তা এখনো একটি কমিটির পর্যায়ে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দেয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে জাকসু নিজেদের উদ্যোগে ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা দেখিয়ে যেতে চাই, সদিচ্ছা থাকলে শিক্ষক মূল্যায়নের মতো একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কমিটি ওয়েবসাইটটি পর্যালোচনা করে তাদের প্রস্তাবনায় বিষয়টি বিবেচনা করবে।’
জাকসু জানিয়েছে, ওয়েবসাইটে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত শিক্ষার্থীরা তাদের অফিসিয়াল ই-মেইল ব্যবহার করে প্রবেশ করতে পারবেন। একজন শিক্ষার্থী কেবল নিজের বিভাগের এবং যে শিক্ষকের কোর্স করেছেন, সেই শিক্ষককে মূল্যায়ন করতে পারবেন। ফলে বিভাগের বাইরের শিক্ষক বা যে শিক্ষকের কোর্স করা হয়নি, তাকে মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে না।
ওয়েবসাইটটির ডেভেলপার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সালমান আহমেদ বলেন, আমাদের সিস্টেমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেয়া অফিসিয়াল ই-মেইল ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী দুই পক্ষের তথ্যের গোপনীয়তা এবং মূল্যায়নের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে জাকসুর এ উদ্যোগকে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে না প্রশাসন। ভিসি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘শিক্ষক মূল্যায়নসহ জাকসুর কয়েকটি দাবির বিষয়ে কাজ করতে বিশ্ববিদ্যালয় একটি কমিটি গঠন করেছে। শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর এখতিয়ার জাকসুর নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব।’
ভিসি আরো বলেন, ‘জাকসুকে ধন্যবাদ জানাই, তারা একটি নমুনা তৈরি করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটি এটি বিশ্লেষণ করে কিভাবে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা যায় এবং এতে কোনো সঙ্কট বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে কি-না, তা বিবেচনা করতে পারবে। এ ধরনের একটি উদ্যোগ অবশ্যই মূল্য সংযোজন করবে।’







