
কিউবার সাথে সম্পর্ক থাকার অজুহাতে চীনা দু’টি প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে চীন। একইসাথে ওয়াশিংটনকে অবিলম্বে তার ‘ভুল নীতি’ সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
শনিবার (৭ নভেম্বর) চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
বেইজিংয়ের অভিযোগ, ওয়াশিংটন চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে একতরফা চাপ ও বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতিরই এটি আরেকটি উদাহরণ।
গত বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ঘোষণা দেয়, কিউবার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় চীনের দু’টি প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিউবার সাথে সম্পর্কের অজুহাতে চীনা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা এবারই প্রথম আরোপ করা হলো।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা প্রতিষ্ঠান দু’টি হলো চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘চায়না ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক্স ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন’ (সিইআইইসি) এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘বেইজিং এইচঅ্যান্ডসি টেকনোলজিস’।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় কোনো দেশের সাথে সংশ্লিষ্টতার অজুহাতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এটি আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতিমালার পরিপন্থী। চীন এ ধরনের পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে।
ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিরুদ্ধে চাপ ও নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে এবং দ্রুত একের পর এক বৈষম্যমূলক ও সীমাবদ্ধতামূলক পদক্ষেপ কার্যকর করছে। এসব পদক্ষেপ চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থের মারাত্মক ক্ষতি করছে। একইসাথে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যেরও পরিপন্থী এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিবৃতির শেষাংশে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানায়, যুক্তরাষ্ট্রকে যত দ্রুত সম্ভব তার ভুল নীতি সংশোধন করতে হবে। পাশাপাশি নিজেদের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার অধিকারও সংরক্ষণ করছে চীন।
এদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার বিরুদ্ধে ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপের অভিযান আরো জোরদার করেছে। তেল খাতে নিষেধাজ্ঞা এবং ইলেকট্রনিকস খাতে বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে কার্যত হাভানার সাথে বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্যের পথ বন্ধ করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।
এ দফায় চীনা দু’টি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও আরো আটটি সংস্থা ও দুই ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে কিউবার ইলেকট্রনিকস, উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাতেও নিষেধাজ্ঞার পরিধি বিস্তৃত করা হয়েছে।
এর আগে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এসব পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেছিল, এগুলো অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞা। আন্তর্জাতিক আইনে এর কোনো ভিত্তি নেই, জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনও নেই। এমনকি অন্য দেশের ভূখণ্ডের বাইরে গিয়ে মার্কিন আইনের প্রয়োগেরও কোনো এখতিয়ার নেই।
১৯৬০-এর দশক থেকেই যুক্তরাষ্ট্র কিউবার স্বাধীন রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন এবং দেশটির জনগণকে শাস্তি দেয়ার হাতিয়ার হিসেবে নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর অর্থনৈতিক অবরোধকে ব্যবহার করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসনও ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ এবং ‘সন্ত্রাসবাদে সমর্থন’-এর মতো অজুহাতে কিউবার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি জোরদার করেছে, যার লক্ষ্য দেশটিকে নতিস্বীকারে বাধ্য করা।
তবে ওয়াশিংটনের আধিপত্যবাদী চাপের মুখেও কিউবা তার সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষা করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। একতরফা মার্কিন আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দেশটি।
সূত্র : পার্সটুডে
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








