
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমাবেশ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। দলটির দুই কর্মীকে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দেয়ার পর শুক্রবার শহরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
যুব নেতৃত্বাধীন সিজেপি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ধারাবাহিক বিক্ষোভ করে আসছে। এসব বিক্ষোভে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
সিজেপির সমর্থকদের স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় নয়াদিল্লির সেন্ট্রাল পার্কে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহে একটি বিক্ষোভস্থলে বেআইনিভাবে প্রবেশের অভিযোগে আন্দোলনটির দুই নেতাকে পাঁচ দিনের জন্য কারাগারে পাঠানোর পর এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
তবে ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ পার্কটি বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বসানো হয়েছে ধাতব ব্যারিকেড।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, বিক্ষোভ শুরুর আগেই পুলিশ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করতে পারে। তবে তিনি বলেছেন, তিনি ও তার সমর্থকেরা ভয় পান না; প্রয়োজনে কারাগারে যেতেও প্রস্তুত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে দীপকে সরকারের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি দমন-পীড়নের নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, ‘আজ যারা ক্ষমতায় রয়েছে, বিরোধী দলে থাকার সময় তারাই কয়েক দশক ধরে বিক্ষোভ করেছে, রাস্তায় নেমেছে এবং তৎকালীন সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।’
দীপকের ভাষায়, ‘তাদের বিরুদ্ধে যদি একই ধরনের বিধিনিষেধ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও পুলিশি দমন-পীড়ন চালানো হতো, তাহলে আজ ক্ষমতায় থাকা অনেকেই হয়তো এই অবস্থানে পৌঁছাতে পারতেন না।’
সিজেপির এই সমাবেশ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন আন্দোলনটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রশাসনের বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। চলতি মাসে নির্বাচনী সংস্কার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ করেছে দলটি।
সিজেপির অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ দেয়ার প্রক্রিয়ার তদারকি করেছেন জ্ঞানেশ কুমার। দলটি এ ঘটনায় ভোটার জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে।
তবে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের দাবি, ভুয়া, মৃত ও নকল পরিচয়ে নিবন্ধিত ভোটারদের নাম বাদ দিতেই তালিকায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ভারতের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের প্রেক্ষাপটে গত মে মাসে সিজেপি প্রতিষ্ঠিত হয়।
অল্প সময়ের মধ্যেই আন্দোলনটি ভারতের তরুণ প্রজন্মের, বিশেষ করে জেনারেশন জেডের, ক্ষোভ প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী সরকারের আমলে বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের সঙ্কটের কারণে অনেক তরুণ নিজেদের বঞ্চিত মনে করছেন।
আন্দোলনের চাপে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, রাজনৈতিক বিরোধীরা দ্রুত আন্দোলনটির প্রতি সমর্থন জানানোয় মোদি সরকারের ওপর চাপ বেড়েছে। কয়েকজন বিশ্লেষকের মতে, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এটিই মোদির জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক সঙ্কট।
সূত্র: আল জাজিরা
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








