সিম্পোজিয়াম
সিম্পোজিয়ামে উপস্থিতির একাংশ। নয়া দিগন্ত

বাংলায় মুসলিম জাতিসত্তার বিকাশ, ইতিহাস, অর্থনীতি, শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতিতে গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের অবদান নিয়ে সাংস্কৃতিক সংগঠন তাইরানের আয়োজনে সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

Advertisement

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৩.৩০টায় ঢাকার বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ লেখক কর্ণারে ‘গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ ও বাংলায় মুসলিম জাতিসত্তার বিকাশ’ শীর্ষক এই সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত হয়।

লেখক শামসুল আবেদীন’র সভাপতিত্বে এবং ছড়াকার ও সংগঠক ফরিদ সাইদ’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নির্ধারিত বিষয়ের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেখক, গবেষক ও নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের জিইডি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: রবিউল ইসলাম রবি।

প্রবন্ধ পাঠ করছেন লেখক, গবেষক ও শিক্ষক মো: রবিউল ইসলাম রবি 

অনুষ্ঠানেপ্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ড. সাহেদ মন্তাজ বলেন, ‘বৃহত্তর মুসলিম জাতি সত্তার বিকাশকে বেগবান করতে গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের অবদান অনস্বীকার্য। ইতিহাসের এই পুনর্পাঠ—ভবিষ্যতের পথচলায় একটি সেতুবন্ধন নির্মাণ করবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস রাখছি।’

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে লেখক, গবেষক ও নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বাংলার ভূখণ্ডের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার শাসনামলে চীন ও আরবদের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারিত হয়। বিশেষত : আরবদের সাথে পূর্বে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে তিনি নতুন করে শক্তিশালী করেন।’ 

তিনি আরো বলেন, গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ মুদ্রানীতির প্রচলন করেন। তিনি রাজ কবিদের প্রণোদনা দিয়ে বাংলা ভাষা, শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতির প্রসার ঘটান।’

প্রবন্ধ পাঠোত্তরে সারাংশ বর্ণনায় কবি ও সম্পাদক আফসার নিজাম বলেন, ‘আত্ম-পরিচয় জানতে হলে ইতিহাসের পাঠ জরুরি। বাংলায় মুসলিম সমাজ ও জাতি সত্তা গঠনে সমসাময়িক চিন্তার ঐক্য এবং নিজেদের ঐতিহাসিক অবদান তুলে ধরতে প্রবন্ধটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।’

নির্ধারিত আলোচকের বক্তব্যে লেখক অ্যাডভোকেট লুৎফুল আহসান বাবু বলেন, ‘রাষ্ট্র গঠনের চিন্তায় গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের মতো সুষ্ঠু চিন্তার বীরদের আমাদের সন্তান, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গল্প করে করে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

নির্ধারিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন লেখক ও আবৃত্তি শিল্পী জেবুন্নেসা মুনিয়া। তিনি বলেন, ‘সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের শাসনআমল বাংলা সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ সময়। ভিনদেশী একজন মুসলিম শাসক হয়েও তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অগ্রগতিতে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। বাংলা সাহিত্যের সূচনা ও বিকাশের ইতিহাস আলোচনায়— মুসলমানদের অবদান একবাক্যে স্বীকার করতে হবে।’ 

এর আগে সিম্পোজিয়ামের উদ্বোধনী বক্তব্যে কথাশিল্পী শেখ হিজারুল ইসলাম বলেন, ‘সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের আমলেই মূলত : বাংলার শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির ভিত্তি রচিত হয়।’

আয়োজকের বক্তব্যে তাইরান’র কর্ণধার কবি, সাংবাদিক, সম্পাদক ও সংগঠক তাসনীম মাহমুদ বলেন, ‘দাসের জীবনে প্রবেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ হচ্ছে নিজের স্বাধীন, সার্বভৌম ও অখণ্ড চিন্তাকে সাংস্কৃতিক গোলামীর কাছে বন্ধক রাখা। আমরা যদি আমাদের ইতিহাসকে একটি সময়ের ফ্রেমে বন্দী করে ফেলি তাহলে আমরা আমাদের ঐতিহাসিক সংস্কৃতির ঐতিহ্য সন্ধানে ব্যর্থ হবো। এবং ওই সাংস্কৃতিক গোলামীর জিঞ্জির গলায় ফাঁসির মতো ঝুলে থাকবে। ফলে, তাইরান বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের কাছে এই মেসেজটি-ই পৌঁছে দিতে তার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানের সমাপনীতে সভাপতির বক্তব্যে লেখক শামসুল আবেদীন বলেন, ‘আজকের এই আলোচনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ চলার পথ খুঁজে নেব।’

এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কথাশিল্পী লেখক, গবেষক ও  শিক্ষক জাফর আহমেদ, সালেহ মাহমুদ, কবি জাফর পাঠান, ছড়াকার খান কাওসার কবির, লেখক ও সম্পাদক শাহাদাৎ সরকার, শিশু সাহিত্যিক রবিউল কমল, শিশু সাহিত্যিক কামাল হোসেন, নজরুল সংগীত শিল্পী এস এম হারুনর রশীদ, আবৃত্তি শিল্পী কামাল মীনা, কবি ও লেখক হাবিবুর রহমান, লেখক আম্মার তাকি, নাঈমা রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা।