ইরান, পরমাণু কর্মসূচি, তথ্য, নগদ,  পুরস্কার, যুক্তরাষ্ট্র,
তেহরানের ইনকিলাব চত্বরে ‘বিজ্ঞানই শক্তি’ লেখা একটি বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে যাতায়াত করছেন ইরানিরা। বিলবোর্ডে পরমাণুবিজ্ঞানী ও সেন্ট্রিফিউজের ছবিও রয়েছে। সংগৃহীত

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে গোপন তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার পুরস্কার দেয়া হবে। পাশাপাশি, তথ্যদাতার নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে তাকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থাও করবে যুক্তরাষ্ট্র।

Advertisement

ইসরাইলের দৈনিক জেরুজালেম পোস্ট (৭ নভেম্বর) জানায়, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এ পুরস্কারে ঘোষণা দিয়েছে। সন্ত্রাসবাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদেশি তৎপরতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে কাজ করে ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ (আরএফজে)। কর্মসূচিটি আওতায় নতুন প্রস্তাবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির সাথে যুক্ত স্থাপনা, সরঞ্জাম ও ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সিগন্যাল, টেলিগ্রাম ও টর ব্রাউজারের মাধ্যমে একাধিক ভাষায় তথ্য পাঠানো যাবে। ১৯৮৪ সালে কর্মসূচিটি চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১২৫ জনের বেশি ব্যক্তিকে মোট ২৫ কোটি ডলারেরও বেশি পুরস্কার দিয়েছে আরএফজে। তাদের দেয়া ‘মূল্যবান তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় সহায়তা করেছে’ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

Advertisement

তথ্যদাতাদের নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়। প্রতিটি ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তথ্যদাতা ও তার পরিবারের সদস্যদের অন্যত্র নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থাও করতে পারে সংস্থাটি।

এর আগে,  সন্ত্রাসবাদ, বিদেশি নির্বাচনে হস্তক্ষেপ, ক্ষতিকর সাইবার তৎপরতা এবং উত্তর কোরিয়ার অর্থায়নব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য দেয়ার জন্য ১০ লাখ ডলারের কম থেকে সর্বোচ্চ আড়াই কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে আরএফজে।

এদিকে শুক্রবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, ইরানের সরকারকে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ডিজিটাল সম্পদ ব্যবহার এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নে সহায়তার অভিযোগে আটটি ডিজিটাল সম্পদ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে চলে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের যেকোনো সম্পদ জব্দ হবে এবং মার্কিন নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের সাথে তাদের সব ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘বিশ্বের যেখানেই ইরানি সরকারের অর্থের লেনদেনের ব্যবস্থা থাকুক, তা বন্ধ এবং অকার্যকর করে দিতে তৎপতরতা চালাবে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।’